চেয়ারম্যানের নির্যাতনে হাসপাতালে গৃহবধূ

নাটোর

নাটোরের সিংড়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যানের নির্যাতনের শিকার এক গৃহবধূ হাসপাতাল বেডে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। প্রকাশ্য রাস্তায় তার মাথায় রামদা দিয়ে কুপিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে হাত-পা।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হলেন সুলতান আহমেদ ওরফে ‘বাবা সুলতান’ আর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর নাম ফজিলা বেগম।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ফজিলা বেগম, তার স্বামী বাবলু মিয়া এবং এলাকাবাসী জানান, রোববার দুপুরে উপজেলার বনকুড়ি গ্রামে বনকুড়ি মসজিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা খাস জলাশয়ের মাছ ধরতে যায় ১২ নং রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ ওরফে বাবা সুলতান ও তার সহযোগীরা। এ সময় এলাকার নারী-পুরুষ মিলে মাছ ধরতে বাধা দিলে তিনি পিস্তল দেখিয়ে সবাইকে তাড়িয়ে দেন। ঘটনার সময় বনকুড়ি গ্রামের বাবলু মিয়ার স্ত্রী ফজিলা বেগম (৩৮) সবার পেছনে পড়ে গেলে চেয়ারম্যান সুলতান তাকে ধরে টেনেহিঁচড়ে বনকুড়ি ব্রিজে নিয়ে আসে। পরে তার সহযোগী শামীম ও এনামুলসহ কয়েকজন তার মাথায় রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ও বাম পা এবং হাত ভেঙে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী আহত গৃহবধূ ফজিলা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

এলাকাবাসী জানিয়েছে ‘বাবা সুলতান’খ্যাত সুলতান আহমেদ ২০১১ সালের ২৫ জুন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। বেশির ভাগ সময়ই ইউনিয়ন পরিষদ চলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে। তার ভয়ে সাধারণ মানুষ আর ইউনিয়ন কার্যালয়ে যায় না।

এ ব্যাপারে কথা বলতে চেয়ারম্যানের সেলফোনে বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সিংড়া থানার ওসি নাসির উদ্দিন মণ্ডল জানান, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনলেও এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় মামলা করতে আসেনি। মামলা করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।