ছাত্রলীগের দুই নেতা নিহত

জাতীয়

ঢাকার হাজারীবাগে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা আরজু মিয়া র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এবং মাগুরায় পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে অন্তঃসত্ত্বা নারী গুলিবিদ্ধ হওয়া মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান আজিবর ওরফে অজিবর শেখ নিহত হয়েছেন।

গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আরজু মিয়াকে আটক করা হয় বলে মুফতি মাহমুদ খান দাবি করেছেন। গত সোমবার হাজারীবাগের গণকটুলীতে রাজা মিয়া নামের এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এলাকাবাসী তাকে ‘পাগলা পোলা’ হিসেবে চেনেন। যে নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে বেঁধে মারপিট করে রাজাকে হত্যা করা হয়, এর নিরাপত্তাকর্মী তৌহিদ মিয়াসহ আশপাশের অনেকেই রাজার কান্না ও আর্তনাদ শুনতে পেয়েছেন। একই সঙ্গে মারধর করা লোকজনের হম্বিতম্বিও শোনা গেছে। শেষ পর্যন্ত নিবৃত্ত করতে এগিয়ে যায়নি কেউ।এলাকাবাসী ও স্বজনদের অভিযোগ, মুঠোফোন ও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে পাগলাটে স্বভাবের ওই কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া ও তার সহযোগীরা। হাজারীবাগ থানার পুলিশ মনির, সুজন ও সাগর নামে আরজুর তিন সহযোগীকে আটক করেছে।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান, আজিবর এক সময় পৌর ছাত্রলীগের কমিটির সদস্য ছিলেন। তার বাবা আবদুল মালেক আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। ‘৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বোমা বানাতে পারদর্শিতার কারণে মাগুরায় তিনি ‘বোমা মালেক’ হিসেবে পরিচিত হন।
পলাতক আজিবর ধরা পড়েছেন বলে সোমবার মাগুরায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের কর্তা-ব্যক্তিদের কেউ সেই খবর স্বীকার করেননি।

মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে পুলিশ জানায়, রাত ১টার দিকে জেলা শহরের দোয়ারপাড়া এলাকায় আজিবর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।
মাগুরার পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আজিবরসহ একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দোয়ারপাড়া এতিমখানা এলাকায় অবস্থান করছে খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল সেখানে যায়। সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালানোর চেষ্টা করে। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থলে আজিবর শেখের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। অন্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করেছে বলে দাবি করেন এহসান উল্লাহ।গুলিবিদ্ধ নাজমার দেবর কামরুল ভুঁইয়ার সমর্থকদের সঙ্গে এলাকার আধিপত্য নিয়ে গত ২৩ জুলাই জেলা শহরের দোয়ারপাড়া এলাকায় সংঘর্ষ বাধে আজিবর ও মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের। এতে কামরুলের চাচা মোমিন ভুঁইয়া নিহত ও ভাবি নাজমা গুলিবিদ্ধ হন।
   

যায় যায় দিন