ছয় দিনেও খোঁজ মেলেনি চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যাওয়া অজগরের!

রাজশাহী

রাজশাহীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার খাঁচার ফাঁক দিয়ে পালিয়ে যাওয়া অজগরের খোঁজ মেলেনি ছয় দিনেও। চিড়িয়াখানা এবং এর আশপাশের এলাকায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না সেই অজগরটি। সাপটি চিড়িয়ানার ভেতরেই আছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও ধারণা করা হচ্ছে তা বাইরে চলে গেছে।

গত কয়েক দিন থেকে রুটিন করে ঝোপঝাড়, জঙ্গল, ড্রেন ও ইঁদুরের গর্তে নানা কৌশলে খোঁজাখুঁজি করে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে চিড়িয়াখানা কর্মচারীদের। কিন্তু অজগরের কোনো হদিস বের করতে পারেনি। ফলে পালিয়ে যাওয়া অজগরটি নিয়ে আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। এ ব্যাপারে প্রথমে তিন এবং পরে বর্ধিত করা ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটিও প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মাহবুবুর রহমানকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- মহানগরের ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহরাব হোসেন শেখ, চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফরহাদ উদ্দিন ও সুপারভাইজার আবদুল খালেক স্বপন। সময় উল্লেখ না করা হলেও কমিটিকে শিগগিরই সম্ভব প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে ছয় দিন পার হলেও তারা প্রতিবেদন দেননি।

এদিকে, সাপটি খুঁজে না পাওয়ায় চিড়িয়াখানার দর্শনার্থী ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় দর্শনার্থীও কমতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা দর্শনে গিয়ে অজগর বেরিয়ে যাবার খবরে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে অজগরটি উদ্ধারে চিড়িয়াখানা ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

চিড়িয়াখানার সুপারভাইজার আবদুল খালেক স্বপন জানান, দুইমাস আগে অজগরটি নওগাঁয় ধরা পড়ে। পরে বিভাগীয় বনবিভাগ তাদের কাছে অজগরটি হস্তান্তর করে। এর আগেও তিনবার খাঁচা থেকে অজগরটি বেরিয়ে পড়ে। অনেক খোঁজাখুঁজি করে চিড়িয়াখানার মধ্যেই পাওয়া যায়। কিন্তু এবার বিভিন্নভাবে অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ছয় দিনেও অজগরটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মাহবুবুর রহমান বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। কমিটির সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। শিগগিরই অজগরটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনও শিগগির দাখিল করা হবে। কেউ সন্ধান পেলে আতঙ্কিত না হয়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

চিড়িয়াখানা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী বলেন, ‘খাঁচাগুলো নতুনভাবে অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে। এজন্য সংস্কার করা হয়নি। তবে কোথাও ফুটো ছিল না। অজগরটি নিজেই কামড়িয়ে ফুটো করে বেরিয়ে গেছে। অজগর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছিল। পরে তা বর্ধিত করে ১০ সদস্যের করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে কারও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, রাজশাহীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা থেকে নেট দিয়ে ঘেরা খাঁচার ফাঁক দিয়ে পালিয়ে গেছে অজগর সাপ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) থেকে অজগরটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে গোপনে গোপনে অজগরটির খোঁজ চললেও এখন পর্যন্ত তা উদ্ধার করতে পারেনি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি অজগরটি চিড়িয়াখানার মধ্যেই রয়েছে।]

তথ্যসূত্রঃ বাংলানিউজ