জঙ্গি আস্তানায় ফায়ারম্যানের মৃত্যু তদন্তে নেমেছে পুলিশ

গোদাগাড়ী রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুরে জঙ্গি হামলায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিনের (৪০) মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে পুলিশের পক্ষ থেকেও গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটি। পুলিশ সদর দপ্তর পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করে দিয়েছে।
জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় পুলিশের পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কী না তা তদন্ত করবে কমিটি। পাশাপাশি পরবর্তীতে কোনো জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানোর প্রয়োজন হলে পুলিশ কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে তার সুপারিশও চাওয়া হয়েছে তদন্ত কমিটির কাছে।

গত বৃহস্পতিবার বেনীপুর গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী সাজ্জাদ আলীর বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। এরপর ভেতরের সন্দেহভাজনদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু কোনো সাড়া মিলছিল না। পুলিশ তখন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ডেকে এনে পানি ছিটিয়ে বাড়ির একপাশের মাটির দেয়াল ধসিয়ে দিতে তৎপরতা শুরু করে।
এ সময় সাজ্জাদ আলীসহ ওই বাড়ি থেকে পাঁচ জঙ্গি বের হয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে মারা যান ফায়ারম্যান মতিন। আহত হন আরও চার পুলিশ সদস্য। এ ঘটনার পর আত্মঘাতি বোমা বিস্ফোরণে সাজ্জাদ আলী, তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও এক বহিরাগত জঙ্গি নিহত হয়।

এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে। এরপর নিহত ফায়ারম্যান আবদুল মতিনের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ তুলেছেন- তার এই মৃত্যুতে পুলিশের গাফিলতি আছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, যে কোনো অপারেশনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ভূমিকা সব শেষে। অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটলে তাদের উদ্ধার করবে বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু এই অভিযানে ফায়ারম্যানদের ব্যবহার করে তাদের পানিকেই ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা অভিযানের শুরুতেই।

ফায়ারম্যান মতিনের মৃত্যু তদন্ত করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি তদন্ত করছে। ঘটনার সময় নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি ছিল কী না তা তদন্ত করবে কমিটি। এই কমিটিকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে ১৫ দিন। একই ঘটনা তদন্তে এরই মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের খবর জানা গেল।

পুলিশ সদর দপ্তরের গঠন করে দেওয়া ওই কমিটির প্রধান রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন আহমেদ। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারাও আছেন।
তারা মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছেন। ‘জঙ্গি বাড়িটি’ পরিদর্শনের পাশাপাশি তার কথা বলেছেন প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে। অপারেশন ‘সান ডেভিল’ চলাকালীন সময়ে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আজম তৌহিদ এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজাউদ্দীনের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান সরদার তমিজ উদ্দিন স্বীকার করেছেন তিনি তদন্ত কমিটির প্রধান। যদিও তদন্তের বিষয় নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, তারা ফায়ারম্যান মতিনের মৃত্যুর বিষয় নিয়ে তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। পরবর্তীতে কোনো জঙ্গিবিরোধী অভিযানের প্রয়োজন হলে পুলিশ কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে তারও একটি সুপারিশনামা চাওয়া হয়েছে তাদের কাছে।
এদিকে আবদুল মতিনের মৃত্যুতে ১০ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিযানে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কাজ করছিল। মতিনের মৃত্যু একটি দুর্ভাগ্য এবং অপারেশনাল দুর্ঘটনা। তার মৃত্যুতে পুলিশও সমব্যাথি।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন