জঙ্গি আস্তানায় ফের অভিযান শুরু

গোদাগাড়ী রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুরের জঙ্গি আস্তানায় ফের অভিযান শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান শুরু করে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান স্থগিত করা হয়। এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অপারেশন সান ডেভিল’। রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মাসুদুর রহমান ভুঁইয়া সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে এসেছে। তাদের পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় রাতের জন্য অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আবার অভিযান শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এরপর ভেতরের জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু এতে তারা সাড়া দেয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে জঙ্গিরা বের হয়ে নিজেদের কাছে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এভাবে আত্মঘাতী হয়ে পাঁচ জঙ্গি মারা যায়। আর তাদের বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে মৃত্যু হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিনের।

পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের দেওয়া তথ্য মতে, জঙ্গি আস্তানায় নিহতরা হলো- বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেন (৫০), তার স্ত্রী বেলী আক্তার (৪৫), তাদের ছেলে আল-আমিন (২০), মেয়ে কারিমা খাতুন (১৭) ও অপর এক বহিরাগত জঙ্গি (২৫)।

পুলিশ ধারণা করছে, বহিরাগত জঙ্গির নাম আশরাফুল। সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর এলাকার বাসিন্দা। সে শীর্ষ জঙ্গি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নিহত জঙ্গি আশরাফুলকে দিনভর জঙ্গি সাজ্জাদের ছেলে সোয়েব হিসেবে ধারণা করা হচ্ছিল। জঙ্গি আস্তানা থেকে আত্মসমর্পণ করা নারী সাজাদ্দের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, নিহত ওই জঙ্গি আশরাফুল। অভিযানের সময় তার ভাই সোয়েব বাড়িতে ছিল না।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁঞা জানান, জঙ্গি আস্তানার চারপাশে ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি জানান, জঙ্গি আস্তানা থেকে আত্মসমর্পণ করা সুমাইয়া খাতুনকে থানায় রাখা হয়েছে। আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া তার দুই শিশু সন্তানও পুলিশের হেফাজতে আছে।

খবরঃ রাইজিংবিডি