জনবল সংকটে রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তর

রাজশাহী

রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরে জনবল সংকট প্রকট। কয়েকজন পিয়নসহ এখানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন। আবার নওগাঁ ও নাটোরে আলাদা কোনো অফিস না থাকায় এই ৯ জনকেই কাজ করতে হয় সেসব জেলায়। ফলে স্থবির হয়ে উঠছে পরিবেশ অধিদপ্তর। খোদ দপ্তরের একজন কর্মকর্তাই এমন কথা বলছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরে পদের সংখ্যা ১৩ জন। তবে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন। এ অফিসে নেই সিনিয়র কেমিস্ট এবং সহকারী পরিচালক। গবেষণা সহকারী ও নমুনা সংগ্রহকারীর পদও শূন্য। ফলে কোনো কাজেই আসছে না গতি। এতে এই অঞ্চলের পরিবেশ দিনকে দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছে। আবার সেবা প্রত্যাশীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

সংশিৱষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর দিকগুলো মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, দূষণ-অবক্ষয়মূলক সকল কার্যক্রম চিহ্নিতকরণ এবং নিয়ন্ত্রণ এই দপ্তরের আওতাভুক্ত। এছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই, দীর্ঘমেয়াদী ও পরিবেশসম্মত ব্যবহারের নিশ্চয়তা বিধানের দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের।

কিন্তু জনবল সংকটে রাজশাহী অঞ্চলে ব্যাহত হচ্ছে এসব কার্যক্রম। আর এ সুযোগ নিয়েছেন অসাধু ব্যক্তিরা। যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অননুমোদিত ইটভাটা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান। এদের বির্বদ্ধে তেমন ব্যবস্থাও নিতে পারছে না পরিবেশ অধিদপ্তর। তাদের ব্যর্থতায় এসব অঞ্চলে প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট, নদী-নালা, খাল-বিল অবৈধ দখল এবং পরিবেশ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রসারে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক তন্ময় স্যান্যাল বলেন, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অফিস না থাকায় এমনিতেই সেখানে কোনো অভিযান চালাতে পারেন না অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ফলে নজরদারির অভাবে একেবারেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলা দুটির পরিবেশ।
তিনি বলেন, এক অফিসের কর্মকর্তাদের ওপর তিন জেলার দায়িত্ব অর্পিত থাকলে কোনো জেলাতেই ঠিকমতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না পরিবেশ অধিদপ্তর। এ অবস্থায় যত দ্র্বত সম্ভব অফিসটির জনবল সংকট দূর করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জেও পরিবেশ অফিদপ্তরের আলাদা কার্যালয় করে সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।

জানতে চাইলে রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ বলেন, চিঠি দিয়ে জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে জনবল নিয়োগ হয়নি। তিনি দাবি করেন, স্থবিরতা নয়, তারা এ জনবল দিয়েই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কার্যক্রমে গতি আনতে প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আরও জনবল দরকার বলে জানান এই কর্মকর্তা।

মামুনুর রশীদ উলেৱখ করেন, গত অর্থবছরের মোট চার দিনে ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আদায় হয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা। এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে ২৩ দিনে ৪৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে দুই হাজার ৬৯২ কেজি পলিথিন ব্যাগ। এতেও জরিমানা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। এর বাইরে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বিষয়ক ৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে আদায় করা হয়েছে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ