জমে ওঠেনি রাজশাহীর কোরবানির পশুর হাট

রাজশাহী

কয়েক দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। তবে কোরবানির পশুর হাটগুলো এখনও জমে ওঠেনি মোটেও। কোরবানির হাটে গরু-ছাগলসহ বিপুলসংখ্যক পশু উঠলেও নেই ক্রেতা সমাগম। ক্রেতা কম থাকায় বিক্রেতাদেরও হাঁকডাক নেই তেমন। তবে গরু ব্যবসায়ীরা মনে করছেন আপাতত ক্রেতা না থাকলেও দুই একদিনের মধ্যে জমজমাট হয়ে উঠবে পশুর হাট।

বাজারের চিত্র বুঝতে শুক্রবার (০২ সেপ্টেম্বর) হাটে অল্পসংখ্যক ক্রেতাদের অনেকে এব‍ারে পশুর দাম বেশি বলে জানান। গরুর প্রকৃত দাম যা তার থেকে দ্বিগুণ বেশি দাম হাঁকা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাই পশুর হাটের তৎপরতা বর্তমানে দরদামেই আটকে আছে। হাটে পর্যাপ্ত পশুর আমদানি হয়েছে তাই সময় গড়ালে দামও কমবে বলে ধারণা করছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার দুপুরে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ‘সিটি হাট’ ঘুরে কোরবানির হাটের এমন চিত্রই চোখে পড়েছে। এখন দর কষাকষিরই মৌসুম চলছে বলে জানা গেছে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে। বাইরের পাইকাররা এখনও আসেননি। পুরোদমে হাট জমেতে আরও ৪/৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সিটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, এরই মধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন জেলা থেকে গরু আসা শুরু হয়েছে। বিগত কয়েকদিনের তুলনায় শুক্রবার অনেক বেশি গরু এসেছে হাটে। গরু বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীরা হাটের মধ্যে বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে তৈরি লাইনে সারিবদ্ধভাবে পশু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। পশু বিক্রি শুরু না হওয়ায় মুখে পান গুঁজে খোশগল্পেই সময় কাটাচ্ছেন তারা। বাকি সময়টা ব্যয় করছেন কোরবানির পশুর যত্ন আর পরিচর্যায়।

হাটে ক্রেতা না পাওয়ায় মোটেও হতাশ নন ব্যাপারীরা। বরং এখনকার জন্য বিষয়টিকে তারা যৌক্তিক বলেই মনে করছেন। তাদের ভাষ্য, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ক্রেতা সমাগম বাড়বে। কারণ, এখনই কিনে ঈদের দিন পর্যন্ত পশু দেখা-শোনা করা বা যত্ন নেওয়ার মতো সুযোগ নেই নগরবাসীর।

হাটে কথা হয় মহানগরীর উপশহর এলাকা থেকে আসা ইয়াসিন আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, গরু কেনার চূড়ান্ত সিন্ধান্ত এখনও নেননি। তবে ছুটির দিনে বাজার দর যাচাই করতে এসেছেন।

তিনি আরও জানান, মাত্র তিন মণের একটি গরুর দাম চাচ্ছে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। ৫ মণের গরুর দাম হাঁকছেন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। দেশি গরুর এতো আমদানি কিন্তু দামও অনেক। তাই কেনা-বেচা জমে উঠছে না। তার মতে অনেকেই দরদাম করে বাড়ি ফিরছেন।

ইয়াসিন আলীর মতে গত বছরের চেয়ে এবারের হাটে দেশি গরুর আমদানি বেশি। তবে সময় থাকায় ব্যবসায়ীরা এখনও দাম ছাড়ছেন না। কিন্তু ঈদ এগিয়ে আসলে দাম কমানো ছাড়া ব্যবসায়ীদের আর উপায়ই থাকবে না। তখন গরু কিনলে ক্রেতারা পোষাতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী জয়নাল হোসেন বলেন, এবার প্রয়োজনের তুলনায় দেশি গরুর আমদানি বেশি। কিন্তু তারপরও দাম বেশি। কারণ গত বছরের তুলনায় এবার কিনতে গিয়ে শুরুতেই গরু প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি দাম লেগেছে ব্যাপারীদের। এর সঙ্গে পশু লালন-পালনসহ আরও আনুষঙ্গিক খরচ আছে। তাই শেষ পর্যন্ত দাম ছাড়বেন না তারা।

রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু জানান, এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন পর্যন্ত দেশি গরুর আমদানিই বেশি। তবে গতবারের চেয়ে দামও বেশি বলে স্বীকার করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ইজারাদা আতিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে বড় পাইকাররা এখনও আসতে শুরু করেননি। এর পরও কেনা-বেচা শুরু হয়ে গেছে। ৪/৫ দিনের মধ্যে বড় পাইকারদের সমাগম ঘটবে। হাটের কানায় কানায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় থাকবে। তখন পুরোদমে কেনা-বেচাও জমে ওঠবে।

খবরঃ বাংলানিউজ