জাতি চিরকাল খুনিদের ঘৃণা করবে : লিটন

রাজশাহী

‘প্রত্যেক সন্তানের কাছে তার মা-বাবা অত্যন্ত আবেগের জায়গা। আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি বা হওয়ার কথাও না। সেই ক্ষেত্রে এই দিনটিকে হয়তো বা অনেকখানি বছর পার হয়ে গেছে, বাবা হারানোর যে বেদনা তরুণ বয়সে বাবা হারিয়েছি, তখন যেমন ছিল এখন অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে। তবুও ব্যাথা তো থাকবেই।’ জাতীয় চারনেতার অন্যতম এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার সন্তান এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এভাবেই পিতা হত্যার দিনটি স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, আজকের এই দিন আসলে যেটি মনে হয়, আজ দেশ যেভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে জাতীয় চারনেতার সন্তানরাও ভূমিকা রাখছেন। যদি বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা আর কয়েকটি বছর বেঁচে থাকতেন, মাঝখানে এই উন্নয়নের নামে তামাশা বা প্রহসনের এই সরকারগুলো না আসতো, দেশবাসীকে নিয়ে তামাশা না করতো, রাজনীতিকে নষ্ট না করতো, তাহলে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা মিলে দেশটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতেন। তার পরবর্তীতে পরবর্তী জেনারেশন হাল ধরলে দেশটি উন্নত দেশে পরিণত হতো। এই ক্ষতিটা জাতির হয়ে গেছে। যেটা ১৯৭৫ থেকে ৯৬ পর্যন্ত ২১ বছর। এই ক্ষতি সহসা পূরণের নয় এবং এই ক্ষতি যারা করেছেন তারা জাতির জীবন থেকে ২১টি বছর চলে গেছে। এটি তো অফেরতযোগ্য। এ কারণে জাতি চিরকাল এই খুনিদের মীরজাফর হিসেবে চিহ্নিত করবে, ঘৃণা করবে এবং এই দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করবে।

শুধু আমাদের পরিবার নয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যারা হত্যাকারী, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। সেসব দেশের প্রচলিত আইনের সদব্যবহার করেছে তারা। তাদেরকে যাতে ফেরত না পাঠায় সেই ব্যবস্থা করেছে। কাজেই আমাদের নেত্রী তিনি যেমন চেষ্টা করছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি কখেজন যেমন কানাডায় আছেন, তাদের মধ্যে আবার জাতীয় চারনেতার হত্যাকারীরাও আছে। কাজেই আমাদের সবারই দাবি বিচার হয়েছে, বিচারের রায় আংশিক কার্যকরও হয়ে গেছে। যারা এখনও আইনের ফাঁক-ফোকর গলিয়ে পালিয়ে আছে, তাদেরকে ফেরত এনে এটিকে বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার, সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথেষ্ট আন্তরিক। তারা কাজ করছে। কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করে তাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হয়তো একটু সময় লাগছে। কিন্তু এটি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এমনিতে অনেক দেরি হয়েছে। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিচার করতে গিয়ে একটি হত্যাকাণ্ডে যেমন সময় লাগে বরং তার চেয়ে বেশি সময় লেগেছে। কারণ মাঝখানে বারে বারে অন্য দল বা যারা বেনিফিশিয়ারি তারা মাঝখানে ক্ষমতায় এসে বিচার প্রক্রিয়াকে যতোভাবে পারে পেচিয়ে দিয়ে একটি ভজোঘটো অবস্থা তৈরি করেছে। ২০০১ সালে জামায়াত-বিএনপি ক্ষমতায় আসলো। তারা জেলহত্যা মামলার রায় ২০০৪ সালে দিল। সেটি একটি প্রহসনের রায়। যারা প্রকৃত খুনি তাদের নামমাত্র শাস্তি দেওয়া হলো বা বেকসুর খালাস দেওয়া হলো। আমরা সেই রায় সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছি। বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিচারকার্য শেষ হয়ে এখন যে পর্যায়ে আছে তাতে রায় বাস্তবায়নের কাজটি বাকি। বাস্তবায়নের জন্য আমরা অধীর আগ্রহে আছি। কারণ আমাদের সবারই বয়স হয়েছে। আমাদের মায়েরাও গত হয়েছে। তারা আংশিক দেখে যেতে পেরেছেন। আমরা মনে করি এই কলঙ্ক বাঙালি জাতির ললাট থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্যে যা করা দরকার, আমাদের সরকার তা করবে এবং করছে।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন

1 thought on “জাতি চিরকাল খুনিদের ঘৃণা করবে : লিটন

Comments are closed.