জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করল সিংড়া ইউএনও

নাটোর রাজশাহী বিভাগ

নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করলেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হেমন্ত হেনরী কুবি। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি জাহেদুল ইসলাম ভোলার বিরুদ্ধে অফিস কক্ষে প্রবেশ করে তার সাথে অশালীন আচরণ, হুমকি প্রদর্শন ও নাজেহাল চেষ্টার ঘটনায় গত ১ অক্টোবর এ জিডি করেন তিনি।

সোমবার সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দফতর ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেমন্ত হেনরী কুবি সিংড়া-টু-বারুহাস রাস্তার পেট্রো বাংলা পয়েন্ট পরিদর্শন করে সেখানে অবৈধভাবে সুঁতিজাল স্থাপনের দায়ে কৃষ্ণপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও কয়ড়াবাড়ি গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে মামুনকে আটক করার নির্দেশ দেন। পরে ভ্রাম্যমান আদালতে মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর ৩ এবং ৫ ধারা অনুযায়ী আটক দু’জনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। মামুন জাহেদুল ইসলামের আপন ভাগনে।

এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি জাহেদুল ইসলাম ভোলা একই দিন বিকেলে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে তার সাথে অশালীন আচরণ, হুমকি প্রদর্শন ও নাজেহাল করেন। এ সময় সিংড়ার সহকারি কমিশনার (ভূমি) জাহেদুল ইসলামসহ উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি জাহেদুল ইসলাম ভোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেমন্ত হেনরী কুবি সাথে অশালীন আচরণ, হুমকি প্রদর্শন ও নাজেহাল চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেমন্ত হেনরী কুবি বলেছেন, আমরা জনগণের সেবক, সরকারি নিয়ম-শৃংখলা রক্ষা করতে আমাদের কাজ করতে হয়।

আর এসব কাজ করতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কারো রোষানলে পড়া দুঃখজনক। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৩ সালের জুন মাসে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অদৈত চন্দ্র মারপিটের শিকার হওয়ায় তৎকালীন সিংড়া উপজেলা সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ও নাটোর জেলা যুবলীগের এক নেতার হাত থেকে বাঁচতে উপজেলা পর্যায়ের ১৩ শীর্ষ কর্মকর্তা উপজেলা নিবার্হী অফিসার সাইফুর রহমান খানের সভাপতিত্বে জরুরি সভায় মিলিত হয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের আলোকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মহা-পুলিশ পরির্দশক, বিভাগীয় কমিশনার ও নাটোর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তখন এ সব ঘটনায় মামলার পরও সিংড়া থানার তৎকালিন ওসি এ এইচ এম ফায়েজুর রহমান অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মহা-পুলিশ পরির্দশকের কাছেও আবেদন করা হয়েছিল।

নয়া দিগন্ত