জীর্ণ দশায় পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল

অন্যান্য খবর জাতীয়

শুধু নেই আর নেই। এমনই এক পরিবেশ বিরাজ করছে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় হাসপাতালে। রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পাকশী বিভাগীয় হাসপাতালটি বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত।
ডাক্তার নেই, নার্স নেই, নেই প্রয়োজনীয় লোকবল। চাহিদামত ঔষধ সরবরাহ না পাওয়া আর চিকিৎসা সংক্রান্ত জিনিসপত্রের অভাবে রেলওয়ের হাজারো কর্মচারী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে ২০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অপারেশন সেন্টার, এক্সরে সহকারী নাই, ল্যাবরেটরি সহকারী নাই, শুধুমাত্র ফ্লিমের অভাবে এক্সরে হয় রাজশাহীতে। ফার্মাসিস্ট নেই, ক্লিনার থেকেও নেই। ৭৫ শয্যার হাসপাতালটিতে ডাক্তারসহ বিভিন্ন পদে ১২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ৩৭ জন।
এসব কারণে একজন ব্যক্তি পালন করেন দু-তিনটি পদের দায়িত্ব। এমবিবিএস ডাক্তার ৬ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ২ জন। সহকারী সার্জন ডা. এস.কে রায় ২০ বছর যাবৎ কর্মরত। সিনিয়র নার্স শারমিন আক্তার তিন বছর যাবৎ আমেরিকাতে। অথচ কাগজে কলমে তাকে অসুস্থ দেখানো হয়েছে। তিনি সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন।
এই হাসপাতালটিতে খুলনা থেকে সান্তাহার এবং জয়দেবপুর থেকে রাজবাড়ি পর্যন্ত হাজারো রেলওয়ে চাকরিজীবীরা চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।

এখানে ৪ হাজার ১০০ থেকে ৭ হাজার ৯১৫ পর্যন্ত বেতন স্কেলের রেল কর্মচারীদের চিকিৎসা ও ভর্তি রোগীদের ৪ বেলা খাবার বিনা খরচে দেওয়ার কথা থাকলেও তা পাচ্ছে না ফলে পুরুষ ওয়ার্ডে ৪৪টি বেডের স্থলে মাত্র ৬ জন রোগী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি অলাভহনক এবং প্রায় বন্ধ প্রতিষ্ঠান চালু করে লাভজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। সেই প্রক্রিয়াতেই পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় এই হাসপাতালটিকে নতুন উদ্যোমে চালুর ব্যবস্থা করলে একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়বে তেমনি অর্জিত হবে সরকারের লক্ষ্য এবং সাফল্য। এর রেলওয়ে কর্মচারীবৃন্দ ভোগ করবে কাঙ্খিত সেবা।

রেলওয়ে সূত্র মতে, ১৯৬৮ সালে সেই বৃটিশ আমলে ৩ একর জমির উপর নির্মিত হয় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় হাসপাতালটি। পাকশী পদ্মা নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে গড়ে তোলা এই হাসপাতালটি বর্তমান চিকিৎসা সেবা তো দুরের কথা নিজেই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকালে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, চিকিৎসা সেবায় গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করায় রেলওয়ে চাকরিজীবীরা এই হাসপাতাল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কর্মকর্তারা এই হাসপাতালে ভর্তি হলে খাবারসহ সকল সুবিধা ভোগ করে অথচ তার নিচের পদের কোনো ব্যক্তি ভর্তি হলে তাকে খাবার না দেয়া হলেও খরচ কাটা হয় সমান।

চিকিৎসাধীন রেলওয়ে চাকরিজীবী তরিকুল ইসলাম শারীরিক দুর্বলতার জন্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার বেসিক বেতন ১৫ হাজার ৮৭০। অথচ খাবার দেওয়া হয় না। একজন রোগী চিকিৎসারত অথচ সময়মত সেই রোগীকে খাবার না দিতে পারলে সে আরো অসুস্থ হবে এটাই স্বাভাবিক। আবার হাসপাতালটি এমন স্থানে যার আশে-পাশে কোনো দোকানপাট নেই।
হাসপাতালের ড্রেসার হাফিজুর রহমান জানান, তিনি একাই পালন করছেন তিনটি পদের দায়িত্ব। জনবল সংকটের কারণে তিনি অফিস এবং জরুরি বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন।

অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি পালন করেন তিনটি পদের দায়িত্ব- স্টোর, পোশাক এবং খাবার সরবরাহ। এভাবে চললে কিভাবে কাঙ্খিত সেবা দেওয়া সম্ভব তিনি প্রশ্ন রাখেন।
পাকশী বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার (ডিএমও) ডা. সুজিত কুমার রায় বলেন,বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার ও সহকারী বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার এর দুটি পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। ৬ জন এমবিবিএস ডাক্তার থাকার কথা কিন্তু রাজবাড়ী ও ঈশ্বরদীতে কোনো ডাক্তার নেই। সান্তাহারে যিনি আছেন তিনিই রাজশাহীতে যান।
সম্প্রতি ১২ জন এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ পেয়েছেন। এখন দয়া করে যদি রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এখানে পোস্টিং দেন তো কিছুটা হলে স্থবির হয়ে পড়া চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।

আর হাসপাতাল ভবনটি এত পুরোনো একটু বৃষ্টি হলে অঝরে পানি পড়ে। স্যাতস্যাতে ও দুর্গন্ধ বিরাজ করে, হাসপাতালের প্রধান ফটক নেই, নেই কোনো সাইন বোর্ড। একেবারে ভুতুড়ে অবস্থা।
এ ব্যাপারে কথা হয় পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আসাদুল হকের সঙ্গে। তিনি আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন টেন্ডার দেওয়া হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,হাসপাতালের যাবতীয় সমস্যা তাতে কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

খবরঃ জাগো নিউজ