জুনের আগেই চাঁপাই সড়কের কাজ শেষ হবার কথা ছিলো

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের বেহাল দশার কারণে এ রাস্তা দিয়ে পণ্যভর্তি যানবাহনসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট যানবাহনে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের কানসাট ব্রীজ থেকে জোহরপুর বাঁশপট্টি পর্যন্ত ও সোনামসজিদ বিজিবি ক্যাম্প থেকে দারুসবাড়ি রাস্তা প্রবেশ পথ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় খাদের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মহাসড়কের দুইপাশ বেদখল হয়ে থাকার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কের বেহাল দশার বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

জানাগেছে নির্বাহী প্রকৌশলী অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী যোগদান করেননি। তবে সড়ক ও জনপদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা উভয় রাস্তার দৈন্যদশার কথা জানিয়ে বলেন ওই রাস্তায় আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা না হলে বিটুমিন কার্পেটিংয়ের রাস্তা টেকা দায়।
তবে বিশেষঞ্জদের মতামত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ ও আমনুরার ওই রাস্তাটি দিয়ে ধারণ ক্ষমতার চেয়েও অধিক পরিমাণ পণ্য পরিবহণ করা হচ্ছে। আর এতে করেই রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের কানসাট ব্রীজ থেকে জোহরপুর বাঁশপট্টি পর্যন্ত ও সোনামসজিদ বিজিবি ক্যাম্প থেকে দারুসবাড়ি রাস্তা প্রবেশপথ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় খাদের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়-মহাসড়কের ওই রাস্তাগুলোতে কোন কোন স্থানে এইচবিবি করণ করা হলেও খানা-খন্দ বন্ধ করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। চলতি আম মৌসুমে ওই রাস্তায় ট্রাক চলাচলে স্বাভাবিক অবস্থার চাইতে আরো কয়েক গুণ বেড়ে গেছে যানবাহন চলাচল। সেসাথে চলতি বর্ষায় মহাসড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে সড়ক ঘেঁষে বড় বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে মহাসড়কের কার্পেটিং থেকে একটু সাইডে যানবহন নামালেই দুর্ঘটনার আশংকা আরও বেড়ে গেছে।

জানা গেছে, সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে বৃষ্টির সময় প্রায় ৬০ মে.টন পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য ভর্তি ট্রাক মহাসড়ক দিয়ে চলাচলের কারণে রাস্তার বিভিন্ন স্থান দেবে গেছে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পানি নিস্কাশনের জন্য রাস্তার পাশে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তার উপর পানি জমে থাকছে। এতে করে বিটুমিন উঠে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে প্রতিদিন ৭-৮শ’ পণ্যভর্তি ভারী যানবাহন যাতায়াত করছে। কোনো কোনো গাড়িতে রাস্তার ধারণক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি অতিরিক্ত লোড নিয়ে ট্রাক চলাচল করার কারণে রাস্তার এ বেহাল দশা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক তৈরির সময় এ রাস্তার ধারণ ক্ষমতা ছিল মাত্র ২৫ টন। কিন্তু বর্তমানে ওই ধারণ ক্ষমতার রাস্তার ওপর দিয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে প্রতিদিন ৬০-৬৫ টন ওজনের পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য ভর্তি ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এ সব লোড নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ সোনামসজিদের অদূরে একটি পোর্টেবল ওয়েব্রিজ বসালেও তা মাত্র এক মাস পরেই বিকল হয়ে গেছে। গত ৪ বছরেও এ পোর্টেবল ওয়েব্রিজটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ মেরামত করে পুনঃস্থাপন করতে পারেননি। ফলে অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

এদিকে গত ঈদের আগে এ মহাসড়কটির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের সদ্য বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহান দাউদ সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জুনের আগেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহাসড়কটির মেরামত কাজ শেষ হবে বলে জানালেও আজও এর কাজ শেষ হয়নি।

এ ব্যাপারে সদ্য বদলী হওয়া সড়ক ও জনপদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহান দাউদ জানান, এ মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে সামান্য ফোলা জায়গা ছিল যা চেঁচে সমান করে মেরামত করা হয়েছে। সেসাথে যেসব স্থানে পানি জমে বিটুমিন নষ্ট হচ্ছে সেসব জায়গায় কনক্রীটের ঢালাই দিয়ে মেরামত করা প্রক্রিয়াধীন আছে।বিশেষ করে কানসাট এলাকার ৫৪০ মিটার রাস্তা ৪ কোটি টাকা ব্যায়ে কনক্রীট ঢালাই দিয়ে মেরামত সম্পর্ন্ন করা হয়েছে।

এছাড়া বড় আকারের সংষ্কার উদ্যোগ নেয়া হবে আসন্ন বর্ষা মৌসুমের পর।তিনি আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সড়কগুলো বেশ ভালো আছে। আসন্ন ঈদে এবার কোন বাড়িমুখো যাত্রীকে রাস্তার জন্য ভোগান্তি পোহাতে হবেনা।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ ডেইলি সানশাইন