জয়পুরহাটের সাব-স্টেশনে পুকুরচুরি

জয়পুরহাট রাজশাহী বিভাগ

জয়পুরহাটের কালাইয়ে নতুন সাব-স্টেশনে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেই বিকল হওয়া ট্রান্সফরমারটি অবশেষে পরিবর্তন করে দিয়েছে বিদেশী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিমেন্স ইন্ডিয়া। তবে পরিবর্তনের সময় ১০ এমভিএ ট্রান্সফরমার তুলে নিয়ে রাতের অন্ধকারে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে ৫ এমভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ট্রান্সফরমার। যার মূল্য পূর্বের বিকল ট্রান্সফরমারের মূল্যের অর্ধেক।
এদিকে সাব-স্টেশনে ৫ এমভিএ ট্রান্সফরমার স্থাপন করার পর মুল ফটকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ১০ এমভিএ ট্রান্সফরমারের একটি সাইন বোর্ড। তাছাড়া ১০ এমভিএ ট্রান্সফরমার দিয়ে এলাকায় যে পরিমান বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেওয়া যেত, ৫ এমভিএ ট্রান্সফরমার স্থাপন করায় বর্তমানে সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক কর্মকর্তা।

জানা গেছে, জয়পুরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতায় কালাই পৌরসভার সড়াইল নামক স্থানে নতুন সাব-স্টেশনে গত ৬ মাস পূর্বে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ এমভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফরমার স্থাপন করেছেন বিদেশী সিমেন্স ইন্ডিয়া নামে একটি ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান। ট্রান্সফরমারটি নি¤্নমানের হওয়ায় চলতি বছরের ৩ মে মাসে উদ্বোধনের দিনে তা চালু করার ২০ মিনিটের মাথায় বিকল হয়ে পড়লে তা আর চালু করতে পারেনি ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দু’জন প্রকৌশলী বিদ্যুৎ মাঝি ও বাসন্ত রাজেন বিকল হওয়া ট্রান্সফরমারটি মেরামত করতে এসে তার কোন সমাধান করতে না পারায় রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায় তারা। দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ট্রান্সফরমারটি উদ্বোধনের ২০ মিনিটের মাথায় বিকল হলে তখন এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ গত অক্টোবরে বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিদ্যুৎ বিভাগে হৈচৈ পড়ে। ওই সংবাদের জের ধরে কাউকে না জানিয়ে গত রোববার রাতে বিদেশী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ওই নতুন সাব-স্টেশনে এসে পূর্বের বিকল হওয়া ১০ এমভিএ ট্রান্সফরমার তুলে নিয়ে সেখানে ৫ এমভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করেছেন। যার মূল্য বিকল ট্রান্সফরমারের অর্ধেক।
এ দিকে চতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন সাব-স্টেশনের মুল ফটকে ১০ এমভিএ ট্রান্সফরমারের কথা উল্লেখ করে একটি সাইন বোর্ডও ঝুলিয়ে দিয়েছে। যাতে করে কেউ সহজে বুঝতে না পারে, সেখানে ৫ এমভিএ ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ট্রান্সফরমারের গায়ে লাগানো প্লেটে ৫ এমভিএ লোড উল্লেখ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জয়পুরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির একাধীক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ এলাকায় যে পরিমান বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন সাব-স্টেশনে ১০ এমভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছিল, সেখানে ৫ এমভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফরমার দেওয়ায় এখন তা আর সম্ভব হচ্ছে না। এখন এলাকার প্রায় অর্ধেক গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে কালাই আঞ্চলিক অফিসের উপ-সহকারি প্রকৌশলী ইলিয়াস আলী বলেন, নতুন সাব-স্টেশনে ১০ এমভিএ টান্সফরমারের পরিবর্তে ৫ এমভিএ একটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। তবে ওই সাব-স্টেশনে যে ধরণের ট্রান্সফরমারই স্থাপন করুক না কেন, তাকে অবশ্যই ১০ এমভিএ ট্রান্সফরমার স্থাপন করতে হবে সেখানে।
জয়পুরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সিডিউল মোতাবেক নতুন সাব-স্টেশনে ১০ এমভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করতে হবে। সিডিউলের বাহিরে করার কিছুই নেই।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন