টাকা বেশি হলেই মিলছে বাসের টিকিট!

রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ

‘ভেতর থেকে সাফ বলে দেওয়া হচ্ছে টিকিট নেই। কিন্তু বাইরে গিয়ে  টিকিট প্রতি ১০০ টাকা বেশি দিতেই পাওয়া গেলো বাসের টিকিট। কিন্তু নাড়ির টানে বাড়ি আসলেও এখন পেটের টানে রাজধানী ফিরতে হবে। তাই বেশি দামে টিকিট কেনা ছাড়া এখন আর কোনো বিকল্পও নেই।’

রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল এলাকার হানিফ কাউন্টার থেকে বেরিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এমনটিই জানান দরগাপাড়া এলাকার শফিক আহমেদ।

ঢাকায় ফেরত টিকিট কাটতে গিয়ে আজ ঘাম ঝড়েছে তার। অবশেষে টিকিট পেয়েছেন তবে ৪৫০ টাকার টিকিটের জন্য তাকে ৫৫০ টাকা গুনতে হয়েছে। দুটি টিকিট নিয়েছেন ১১০০ টাকায়।

কেবল শফিক আহমেদই নন ঈদ শেষে ঢাকার কর্মস্থলমুখি মানুষগুলোর এখন একই হাল। ফিরতি টিকিট না পেয়ে নানান দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে রাজধানী ফিরছেন কর্মজীবীরা। যারা বেশি দাম দিয়েও টিকিট নামের সোনার হরিণ পাচ্ছেন না। তারা নগদ টাকা দিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উঠছেন বাসের ছাদে।

শিরোইল বাস টার্মিনালে গার্মেন্টস কর্মী জয়নাল হোসেন জানালেন, আজ যে কেনো মূল্যে তাকে ঢাকায় ফিরতেই হবে। না হলে বেতন কাটা পড়বে। কিন্তু বাস কাউন্টারে টিকিট কেনার উপায় নেই। কারণ আগেই বলা হচ্ছে আজ থেকে আরও তিন দিনের কোনো ফিরতি টিকিট নেই।

তাই স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বাসের ছাদে চড়ে বসেছেন। এজন্য তাকে টিকিট কাটতে হয়নি। তবে বাসের হেলপারকে নগদ ৩০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। রোদ-বৃষ্টি যাই হোক কষ্ট শিকার করতেই হবে।

এ সময় শহীদুল ইসলাম নামের ঢাকাগামী এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, টিকিট থাকলেও বাড়তি টাকা আদায়ের জন্য বলা হচ্ছে টিকিট নেই। কর্মস্থলমুখি যাত্রীদের জিম্মি করে বাইরে অনেকটা গোপনেই ৪৫০ টাকার সাধারণ টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর ৭৫০ টাকার এসি টিকিট কারো কারো কাছে ক্ষেত্র বিশেষ এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে।

বর্তমানে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ন্যাশনাল ও দেশ ট্রাভলস, গ্রীণ লাইন এবং শ্যামলী পরিবহনসহ বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানির বাস কাউন্টারের একই অবস্থা।

ভেতরে দাঁড়িয়ে, ইঞ্জিন কাভারে বসে বা ছাদে চড়ে যাওয়া যাচ্ছে কেয়া, মর্ডান, ইসলাম ট্রাভেলস, তুহিন রাব্বানিসহ বিভিন্ন পরিবহনে।

তবে হানিফ কাউন্টারের সহকারী ম্যানেজার শাহীন আহমেদ বাড়তি টাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঈদের ছুটি শেষে পরের সাত দিনের টিকিট ঈদের আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। অনেকে স্বজনদের মাধ্যমে টিকিট নিয়েছেন। আবার যারা আগে এসেছেন, তারা রাজশাহী নেমেই ফিরতি টিকিট নিয়েছেন। ফলে এখন টিকিট শূন্য। তবে কারও যাত্রা বাতিল হলে সেই টিকিট মিলতে পারে বলে জানান তিনি।

একই কথা জানান ন্যাশনাল ট্রাভেলসের ম্যানেজার সাইদুর রহমানও। তিনি বলেন, ঢাকা-রাজশাহী রুটের বাসের টিকিট যাত্রার ৪-৫ দিন আগেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ঈদের আগে রাজশাহী থেকে কোনো চাপ থাকেনা। ঈদের পর প্রতি বছরই এই ফিরতি যাত্রীদের বাড়তি চাপ থাকে। বিশেষ করে ঈদের ছুটির পর এক সপ্তাহের টিকিট পাওয়া যায়না আগে না কাটলে। এখানে তাদের করার কিছু নেই।

সুত্রঃ বাংলানিউজ