টেলিভিশনের গান গেয়ে বহুদূর যেতে চায় অন্ধ রাজিব

অন্যান্য খবর

রাজশাহীর তানোর পৌর সদরের তানোর গ্রামে জন্ম হয় রাজিবের। জন্ম থেকেই রাজিব দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ায় এতটুকু পড়ালেখা শিখতে পারেননি তিনি। একারণে ছোট থেকেই আন্দাজ করে চলা ফেরা করতে হয় তাকে। গরীব পিতা-মাতার সংসারে রাজিব সবার ছোট। মায়ের কষ্ট বুঝে ২০ বছর বয়সেই বিয়ে করতে হয় তাকে। বর্তমানে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে রাজিবের সংসার চলে কলসের গায়ে বাজনা বাজিয়ে। খুব ছোট থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাজিব রেডিও’র গান শোনে গান গাওয়া শুরু করেন। এভাবে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ও চায়ের স্টলে গান গাইতে গাইতে রাজিব এখন গানের অন্ধ শিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার নিজস্ব তৈরিকৃত গান মোবাইল ফোনে ও বিভিন্ন চায়ের দোকানে বাজতে শোনা যায়।
একারণে গান গাওয়াকে তিনি এখন পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন। রাজিব এখন বিভিন্ন জেলা শহরে নিজের তৈরি গান বেশি গেয়ে থাকেন। রাজিব তার ধ্যান, জ্ঞান ও সাধনায় বেশ কয়েকটি তানোরের এতিহ্য নিয়ে গান বেঁধেছেন। তার নিজস্ব এসব গান গেয়ে পাড়া ও মহল্লার লোকদের আনন্দ দিয়ে আসছেন। বর্তমানে গান গেয়েই প্রতিদিন চারশ থেকে পাঁচ টাকা আয় হয় তার। এভাবে টাকা রোজগার করে বৃদ্ধ পিতা-মাতা, তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে পাঁচ সদস্যে সংসার চলে রাজিবের। রাজিব তার নিজস্ব তৈরি করা গান টিভি সেন্টারে গাইতে চান। কলসের গায়ে বাজানো তবলা ও নিজস্ব গান গেয়ে তানোরের এই অন্ধ রাজিব যেতে চান বহুদূর। এজন্য কোন সুহৃদয় ব্যক্তির অনুপ্রেরণা কামনা করেছেন তিনি।