ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় রাজশাহী স্টেশনে যাত্রী দুর্ভোগ

রাজশাহী

সবুর হোসেন। রাজশাহীর বাসিন্দা। কাজ করেন ঢাকার একটি গার্মেন্টসে। ঈদের ছুটি শেষে গতকাল রবিবার দুপুর দুইটায় তার কর্মক্ষেত্রে যোগ দেবার কথা ছিলো। হিসেবে কষে টিকেট কেটেছিলেন সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের সিল্কসিটি ট্রেনের। দুপুর একটা গড়িয়েছে এখনো তিনি রাজশাহী স্টেশনের তিন নম্বর প্লাটফর্মে বসে রয়েছেন।

একই প্লাটফর্মে রাবেয়া সারোয়ার তার এক বছরের বাচ্চা নিয়ে বসে রয়েছেন সেই সকাল থেকে। তিনিও অপেক্ষা করছেন একই ট্রেনের জন্য। গরম আর অচেনাদের ভিড়ে কোলের বাচ্চা শুধুই কাঁদছে। মা রাবেয়া তার বাচ্চাকে কোন ভাবেই শান্ত করতে পারছেন না। সেই সাত-সকালের ট্রেন রাজশাহী স্টেশন ছাড়লো ৬ঘন্টা দেরিতে, দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে।

একই ভাবে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন শনিবার রাত ১১টা ৪০মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও, তা রবিবার দিন সকাল সাতটার পর ছেড়ে গেছে। রবিবার বিকেল ৪টায় পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও, সময়মতো ট্রেনটি স্টেশনে আসার কোন লক্ষণ দেখছেন না কর্তৃপক্ষ। তারা আশা করছেন রাত্রি ১১ টার আগে ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশন ছেড়ে যাবে না।

এই দুরাবস্থা রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী অভিমুখের প্রতিটি ট্রনের যাত্রীদের। ট্রেনগুলো ৬ থেকে ৭ ঘন্টা দেরিতে ছেড়ে যাচ্ছে স্টেশন। বিলম্বিত ট্রেনের কোন তথ্য না পেয়ে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে স্টেশনেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এই ৫ থেকে ৭ ঘন্টা অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। এতে যাত্রীদের নানামুখি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। রাতে ঢাকা গামী ট্রেনের যে সকল যাত্রীরা ছিলেন তারা সকলেই সারা রাত প্লাটফর্মে বসে মশার কামড় খেয়েছেন। কাহিল হয়েছেন গরমে। অবশ্য অনেকে এর মাঠে টিকেট ফেরত দিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ঈদের ৬দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত টেনগুলোর এমন সময় বিপর্যয়কে সহজভাবেই দেখছে কর্তৃপক্ষ। ঈদের সময় ট্রেনের এমন চিত্র যেন তাদের কাছে স্বাভাবিক। তাই এসময় ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে তাদের কোন পদক্ষেপও নিতে দেখা যায় না তাদের।
সড়কে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ভয়ে ট্রেনগুলোতে প্রতিনিয়ত যাত্রী বাড়ছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ তাদের যাত্রীদের কাঙ্খিত সেবা ও সূরক্ষা কোনটাই নিশ্চিত করতে পারছে না। ট্রেনের পাশাপাশি রেল লাইনেও ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ চাপ পড়ছে। পকশি রুটের ট্রেন লাইনে ২৪ ঘন্টায় ২২ টির স্থানে এখন ৪৪টি ট্রেন চলাচল করছে। আর ট্রেনের প্রতিটি বগিতে যে পরিমাণ যাত্রী ধারণ ক্ষমতা তার দ্বিগুণ যাত্রী তোলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে এমনটা করা হচ্ছে।

রাজশাহী স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঈদ যাত্রার পর থেকেই ঢাকা মুখি প্রতিটি ট্রেন ৫ থেকে ৭ ঘন্টা দেরিতে ছাড়ছে। এর জন্য তিনি দায়ি করছেন ট্রেনগুলোর সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করাকে। তিনি আরো জানান, আগামী মঙ্গলবার থেকে ট্রেনের সিডিউল ঠিক হতে শুরু করবে। এ দিন থেকে পর্যায়ক্রমে ট্রেনগুলোর ছুটি কার্যকর হবে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ Daily Sunshine