ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ৩৭ শতাংশ কাজ শেষ

জাতীয়

পুরোদমে এগিয়ে চলছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ। শ্রমিকরা দিন-রাত খেটে এই প্রকল্পের কাজ করছেন। সম্প্রতি ঢাকা-টাঙ্গাইল চার লেন প্রকল্পের কাজের বেশ অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়। এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে প্রকল্পের মির্জাপুর, পাকুল্লা, রসুলপুর এলাকার কাজ। শেষ হয়েছে ৪৫টি কালভার্টসহ ২৬টি সেতুর পাইলিং কাজ। দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে বেশকিছু কালভার্ট ও সেতু নির্মাণের কাজও। সড়ক পরিবহন ও সেতু  মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে, চার লেন প্রকল্পের কাজ প্রায় ৩৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ২৬টি সেতু, ৩টি ফ্লাইওভার, ২টি রেলওয়ে ওভারপাস, ৬০টি বক্স কালভার্ট তৈরির ভৌত কাজ চলছে। ‘সাসেক রোড কানেকটিভিটি প্রজেক্ট : ইমপ্রুভমেন্ট অব জয়দেবপুর চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা রোড (এন-৪) টু এ ফোর লেন হাইওয়ে’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে জয়দেবপুরের ভোগড়া থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ইমবাংকমেন্ট বেজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। বেশকিছু স্থানে চলছে সাববেজের কাজ। এরই মধ্যে প্রকল্পের আওতাধীন কালভার্ট সম্প্রসারণের কাজ শেষ হয়েছে।

সেতুগুলোর গার্ডার স্থাপনের কাজ চলছে। অনেক সেতুর স্লাব ঢালাইয়ের কাজ চলছে। ৫টি ফ্লাইওভারের মধ্যে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, চন্দ্রা, লতিফপুর এবং টাঙ্গাইলের সোহাগপুর ফ্লাইওভারের কাজও শুরু হয়েছে। সরেজমিন টাঙ্গাইল, মির্জাপুর এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও চন্দ্রা এলাকার মহাসড়কের স্থানে স্থানে প্রকল্প কাজের জন্য ব্যবহূত ইট, বালু, সিমেন্ট ও সুরকিসহ রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি দেখা যায়। মহাসড়কের এক পাশে গাড়ি চলাচল করলেও অন্য পাশে চলছে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ। এর কোথাও বালু দিয়ে আবার কোথাও সড়ক বিভাজন দড়ি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রেখে প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি স্থানে পথের পাশে সড়ক সম্প্রসারণ কাজ চলছে। এ জন্য বড় বুলডোজারসহ অন্যান্য ভারী যান ব্যবহার করে মাটি সমান করার কাজ করা হচ্ছে। কোথাও আবার পথের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি এনে রাখা হয়েছে। যেসব সড়কে পিচের কাজ শেষ হয়েছে সেখানে এখন পানি ছিটানো হচ্ছে। পথের পাশে বিভিন্ন স্থানে প্রকল্পের ছোট ছোট অফিস কক্ষের মতো গড়ে তোলা হয়েছে। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কাজের অগ্রগতির জন্য নির্মাণ শ্রমিকরা রাতের আঁধারেই কাজ করছেন। যেসব এলাকায় সেতু ও কালভার্ট তৈরির কথা  সেসব স্থানে পুরোদমে কাজ চলছে। নির্মাণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার জন্য সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কাজের নির্ধারিত সময়ের বাইরেও তাদের মধ্যরাত পর্যন্ত এখন কাজ করতে হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, চলতি বছর টানা বৃষ্টি ও তিন দফা বন্যার কারনে চার লেন প্রকল্পের কাজে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। রাস্তা করতে কিছুটা সময় লাগবে। এরপরও প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে এই প্রকল্পের জন্য বেশকিছু রাস্তায় যান চলাচলে এখনো সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব স্থানে রাস্তা কাটা হয়েছে  সেখানে গাড়ি চালাতে গিয়ে চালকদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এ জন্য এসব স্থানে তৈরি হচ্ছে যানজট। আর প্রচুর ধুলাবালির সঙ্গে শীতের রাতে কুয়াশা থাকায় গাড়ি চালকদেরও পথ দেখতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে এসব স্থানে ভোরে ও রাতে দুর্ঘটনা এড়াতে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিমি. দীর্ঘ দুই লেনের এই মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় এই সড়কটিতে পাঁচটি ফ্লাইওভার, ২৬টি সেতু নির্মাণ, ৬০টি কালভার্ট সম্প্রসারণ, সাতটি আন্ডারপাস ও ১২টি পথচারী সেতু নির্মাণ করা হবে। এর বাইরে ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেনসহ সর্বমোট ২৯.৮ মিটার প্রস্থ মহাসড়ক তৈরির কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১.২ মিটার প্রস্থের ডিভাইডারসহ মহাসড়কের প্রস্থ হবে ১৫.৮ মিটার। প্রতিটি লেন শেষে উভয় পাশে ১.৫ মিটার করে হার্ড সোল্ডার এবং তারপর ২ মিটার করে সফট সোল্ডার নির্মাণ করা হবে। মহাসড়ক থেকে দশমিক ৬ মিটার নিচে তৈরি হতে যাওয়া ধীরগতির যানবাহনের জন্য লেনের প্রস্থ থাকবে ৪.২ মিটার। এটি এলেঙ্গা থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত রাস্তার এক পাশে নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া কালিয়াকৈর থেকে ভোগড়া পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে ৩.৬ মিটার করে সার্ভিস লাইন তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে এই মহাসড়কে ঘারিন্দা, বাসাইল মোড়, করটিয়া হাট বাইপাস, মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ড, সাটিয়াচারা এবং কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ডে আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং আবুধাবি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের ঋণ সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী বছরের অর্থাৎ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা আছে। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কাজের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি কোরিয়ান, একটি ভারতীয় এবং একটি বাংলাদেশি কনসাল্টেন্সি কোম্পানি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কাজের মান বজায় রাখা হচ্ছে কিনা তা এই কোম্পানির লোকজন মাঠপর্যায়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন। উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের ১৭টিসহ মোট ২৩ জেলার যানবাহন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

খবরটি প্রকাশিত হয়েছেঃ ডেইলি সানশাইন