তবুও এগিয়ে যাওয়ার লড়াই

বাগমারা রাজশাহী

বৃষ্টি আক্তার। জন্ম থেকেই তার দুই হাতের কনুই পর্যন্ত নেই। তাতে কি হয়েছে? কনুইয়ে লিখে এবারের জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে অদম্য এ শিক্ষার্থী।

বৃষ্টি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর রিভারভিউ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ওই এলাকার বাচ্চু খন্দকার ও আসমা খাতুন দম্পতির মেয়ে সে।

পেশায় ভ্যানচালক বাচ্চু খন্দকার। তার স্ত্রী আসমা খাতুন গৃহিণী। অভাব অনটনেও মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

বাচ্চু খন্দকার জানান, জন্ম থেকেই দুই হাতের কনুই পর্যন্ত ছিল না বৃষ্টির। তারা ভেবেছিলেন মেয়ে কোনো কাজই করতে পারবে না। হবে না পড়ালেখাও। কিন্তু তাদের সেই ভুল ভেঙেছে। বিদ্যালয়ের আর ১০টা শিক্ষার্থীর মতো পড়ালেখা করছে সে।

তাহেরপুর রিভারভিউ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বৃষ্টি। সে পড়ালেখায় ভালো, জেএসসিতে ভালো ফলাফল হবে তার।

বৃষ্টি আক্তার উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, দুই হাতের কনুইয়ে কলম ধরে উত্তরপত্রে লিখছে ওই ছাত্রী। অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের মতো সাবলিলভাবে লিখছে সে।

পরীক্ষা শেষে বেরিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। এ সময় বৃষ্টি জানায়, ছোটবেলা থেকেই হাতের কনুই দিয়ে লেখার কৌশল আয়ত্ব করেছে সে। ফলে এখন লিখতে কোনো সমস্যা হয় না। কনুই দিয়ে অন্যান্য কাজও করতে পারে বৃষ্টি। পড়ালেখা শেষ করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন তার।

ভবানীগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সহকারী সচিব মুনসুর রহমান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বৃষ্টি ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাবে। কিন্তু সে তা নিচ্ছে না। সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েই সবার সঙ্গে উত্তরপত্র জমা দিচ্ছে সে।

খবরঃ জাগোনিউজ২৪