তালাইমারী-স্টেশন সড়ক এখন মৃত্যুর সওদাগর!

রাজশাহী

কার্পেটিং উঠে গেছে অনেক আগেই। তাই রাস্তায় বিটুমিন থাকার প্রশ্নই আসেনা। ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও ইটের গাঁথুনিও উঠে গেছে। কোথাও আবার চেড়ে আছে সেই ইটেরই মাথা।

সময়ের ঘুর্ণিপাকে পিচঢালা পথটি রূপ নিয়েছে লাল মাটির রাস্তায়। সামান্য বৃষ্টিতেই জমছে পানি। গত সপ্তাহেও সতর্কতা হিসেবে গর্তগুলোর পাশে বাঁশ দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল লাল কাপড়ের নিশান।

তবে এখন সেটিও নেই। রাজশাহীর তালাইমারী-স্টেশন সড়কের অবস্থা এখন এমনই। রাস্তাটির বেহাল অবস্থাই যেন চিৎকার করে যাওয়া-আসা করা মানুষগুলোকে বলছে তার সংস্কার না হওয়ার কথা।

কিন্তু তা কানে যাচ্ছে না কারোই। এনিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) মধ্যে চলছে রশি টানাটানি। এ যেন রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন মৃত্যুর সওদাগরে পরিণত হয়েছে। শহরের প্রধান এ প্রবেশমুখ নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। আর বাইরে থেকে আসা মানুষদের কাছে পরিপাটি রাজশাহী শহর সম্পর্কে আগেই খারাপ বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

দৃষ্টি নন্দন রোড ডিভাইডার, তাকে ঘিরে সবুজের সমারোহ আর নানান ভাস্কর্যের সৌন্দর্য ম্লান হচ্ছে প্রবেশ পথেই। তাই, ঝুঁকি নিয়েই চলছে ঢাকা-রাজশাহী, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরমুখী সব যানবাহন। এজন্য খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে অহরহই ঘটছে দুর্ঘটনা। ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, মহানগরীর প্রবেশদ্বার তালাইমারী হয়ে শিরোইল রেলওয়ে স্টেশন রোডে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। শহরের বাইরে থেকে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আসে। কিন্তু সবাইকে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হয়। তাই শিগগিরই সড়কটি মেরামত না হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও জানান সামাজিক সংগঠনের এ নেতা।

মহানগরীর শিরোইল এলাকার অধিবাসী আব্বাস উদ্দিন বলেন, নগরীতে অভ্যন্তরীণ চলাচলের জন্য সব সময় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় উঠতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থায় অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছেই। গত ২৯ আগস্টও এ সড়কে তানোর থেকে আসা এক অটোরিকশা যাত্রী নিহত হয়েছেন।

রাজশাহী জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাদরুল ইসলাম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ থেকে প্রতিদিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক তালাইমারী দিয়ে ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে। কিন্তু সড়কে খানাখন্দের কারণে দুর্ঘটনায় পড়ছে। সময় লাগছে বেশি। যানবাহনেরও ক্ষতি হচ্ছে। তাই ক্ষোভপ্রকাশ করেন এবং সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান এ পরিবহন নেতা।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরএডিএ) চেয়ারম্যান বজলার রহমান বলেন, নওদাপাড়া থেকে কেবল ভদ্রা মোড় পর্যন্ত তাদের। আর সড়কটির বাকি বড় অংশ রাসিকের।

অপরদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, মহানগরীর তালাইমারী-স্টেশন সড়ক সংস্কারের বিষয়ে সব কার্যক্রম প্রায় শেষ। ঈদের ছুটির পরপরই কাজ শুরু করা যাবে। এছাড়া অন্য সড়কগুলোও দ্রুত সংস্কার করা হবে বলে জানান এ প্রধান প্রকৌশলী।

খবরঃ বাংলানিউজ

2 thoughts on “তালাইমারী-স্টেশন সড়ক এখন মৃত্যুর সওদাগর!

Comments are closed.