তিনটি শিল্পাঞ্চল হলে রাজশাহী এগিয়ে যাবে: মেয়র লিটন

রাজশাহী

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীতে তিনটি শিল্পাঞ্চল অনুমোদন দিয়েছেন। এর মধ্যে বিসিক-২ (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) এর জমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ হয়েছে, চামড়া শিল্পপার্ক এবং বিশেষ অথনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজও এগিয়ে চলেছে। এই তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, রাজশাহী অনেকটা এগিয়ে যাবে। এসবে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে মাসব্যাপী বিসিক ‘তাঁত বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলা-২০১৯’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন।

মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, সরকার কোনো অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখতে চায় না। নিজ নিজ অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। রাজশাহীতে সিল্কে অনেক সম্ভবনা ছিল। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে সিল্ককে ধ্বংস করা হয়েছে। রাজশাহীতে শিল্পাঞ্চলের মাধ্যমে প্রতি বছর ১০ থেকে ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে কর্মসংস্থানের অভাব দূর হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী কৃষিপণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন করেছে। কিন্তু শিল্পায়নে আমরা পিছিয়ে আছি। আমি প্রথম মেয়াদে মেয়র থাকাকালে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) শীর্ষ নেতাদের ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিকদের রাজশাহীতে এনেছিলাম। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম কীভাবে রাজশাহীতে শিল্পায়ন করা যায়। তারা রাজশাহীতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল। এরপর ৫ বছর আমি না থাকায় সেই কাজ থেমে যায়। শিল্পায়ন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অতীতেও উৎসাহ-আগ্রহের কমতি ছিল না। এখনও উৎসাহ-আগ্রহের কমতি নেই।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৫ শতাংশ আসে শিল্প থেকে। এরমধ্যে বিসিকের বলিষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে। দেশে ৭৬টি শিল্পনগরী আছে। অর্থনীতিতে বিসিকের অনেক অবদান রয়েছে। তবে বিসিকের অনেক সফলতা রয়েছে, কিছু ব্যর্থতাও আছে।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের প্রায় তিন হাজার একর জমিতে ৫০টি শিল্পপার্ক হবে। এসব শিল্প নগরীতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও থাকবে। থাকবে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা। আর রাজশাহীতে বিসিক-২ এর কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে, শিগগিরই মাটি ভরাটের কাজও শেষ হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দেড় বছরে মধ্যেই বিসিক-২ এর কাজ শেষ হবে।

বিসিক রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক তামান্না রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিসিক পরিচালক (উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ) খলিলুর রহমান।

এর আগে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। পরে মেয়র ও বিসিক চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য অতিথিরা স্টল ঘুরে দেখেন। মেলায় মোট ২৭টি স্টল বসেছে। ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মেলা চলবে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ২৪