দুঃসহ গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা রাজশাহীর বাসীর

রাজশাহী

দুঃসহ গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা রাজশাহীর মানুষের। মাথার ওপরের নীল আকাশটা যেনো তাঁতালো কড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। প্রকৃতি যেনো তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়ছে। অগ্নিক্ষরা দহনে নিসর্গ প্রকৃতিটা তামাটে বর্ণ ধারণ করছে। গরম বাতাস শরীরে বিধছে আগুনের হলকার মতো।

সূর্যের প্রখর কিরণে খালি মাথায় বাইরে বের হওয়া দায় হয়ে পড়েছে। লু হাওয়ায় হাঁপিয়ে উঠেছে পশু-পাখিরাও। তাপমাত্রার পারদ কেবল উপরেই উঠছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) রাজশাহীতে আবারও মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত ২৩ এপ্রিলও একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

রাজশাহী আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের উপর দিয়ে গত কয়েকদিন থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছলে জনজীবন অসহনীয় হয়ে ওঠে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। এর আগে গত ২০০৫ সালের ১২ জুন রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এরপর ২০১২ সালের ৪ জুন রেকর্ড হয় ৪২ ডিগ্রি। আর ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবছর ক’দিন থেকেই আবার তাপমাত্রা বাড়ছে। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে, ওষ্ঠাগত গরমে কর্মজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এর উপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহানগরীর অধিকাংশ এলাকায়ই রয়েছে লোডশেডিংয়ের কবলে। ফলে যারপরনাই ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রখর রোদ থেকে ঘরে ফিরে গরমে ছটফট করছেন সবাই।

ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। বৃষ্টির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করে রাজশাহীতে বৃহস্পতিবার এস্তেস্কার নামাজ আদায় করা হয়েছে। সকাল ৯টায় মহানগরীর শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিশেষ এ নামাজ আদায় করা হয়।

নামাজ শেষে প্রখর রোদ ও প্রচণ্ড তাপদাহ থেকে পরিত্রাণ পেতে মহান আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়। বিশেষ প্রার্থনা করা হয় অঝোর ধারায় বৃষ্টির জন্য।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, তীব্র গরমের কারণে হাসপাতালে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

এসব রোগে বৃদ্ধ ও শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের সংখ্যাও বাড়ছে। এ সময় বৃদ্ধ ও শিশুদের রোদে না বের হয়ে ঠাণ্ডা পরিবেশের মধ্যে থাকার জন্য বলেন। এছাড়া ডাব, বিশুদ্ধ পানি পান ও দেশী ফলমূল বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

খবরঃ বাংলানিউজ

1 thought on “দুঃসহ গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা রাজশাহীর বাসীর

Comments are closed.