দুই টাকা কাপ চায়ে পাঁচ লাখ টাকার মালিক

নওগাঁ রাজশাহী বিভাগ

বর্তমান সময়ে দ্রব্য মূল্যের যে উর্দ্ধগতি তাতে এক কাপ চা চার থেকে পাঁচ টাকা, আর একটি পান কম পক্ষে তিন থেকে পাঁচ টাকায় বিক্রি হয়। সেখানে দুই টাকা কাপ চা আর একটি পান দুই টাকা করে পাওয়া যাবে তা ভাবাই যায় না। তবে ভাবতে না পারলেও এটাই বাস্তব।

প্রয়োজনে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের তিন রাস্তার মোড়ে থেকে। চায়ের দোকানটিতে সকালে আর বিকালে ব্যপক জন সমাগম ঘটে। মাত্র পাঁচশ’ টাকার পুঁজি খাটিয়ে এখন প্রায় ৫ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।

পাঁচশ ’টাকা পুঁজি কাটিয়ে এখন পাঁচ লাখ টাকার মালিক আত্রাইয়ের ইউনিয়ন পরিষদের দুই টাকা কাপ চা-পান।
উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এই মোড়টির নাম এক সময় সাহেবগঞ্জ বাজার মোড় হিসেবে সকলের জানা থাকলেও এখন ওই মোড়টি সকলের কাছে দুই টাকার মোড়’হিসেবে পরিচিত। শুধু নিজ এলাকার মানুষ নয় সেখানে আত্রাই উপজেলা সহআশ-পাশের গ্রামাঞ্চল থেকে চা খেতে আসেন বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষ।

উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের হাসান মোল্লার ছেলে চা বিক্রেতা নিকবর মোল্লা বর্তমান বয়স তার ৫৬বছর। সে উপজেলা পাথাইলঝাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেনি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। বড়ভাই হাট বাজারে ব্যবসা করতেন বড়ভাই চলে যাওযায় তিনি বাবা- ছোট ভাইদের বাঁচার তাগিদে লেখাপড়া ছেড়ে তিনি চায়ের ব্যবসার হাল ধরে ছিলেন ছাত্রাবস্থায় প্রায় ২১বছর ধরে। তখন থেকে তার ব্যবসার দিকে ঝোঁক চলে আসে।

১৯৭৫ সালে প্রথমে তিনি মাত্র পাঁচশ’ টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। প্রায় দু’যুগের অধিক সময় এই চায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসা করে নিকবর মোল্লা পুঁজি এখন প্রায় ৫ লাখ টাকা। প্রথম দু’বছর পঞ্চাশ পয়সা করে এককাপ চা ও একটি পান বিক্রি করেছেন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি দুই টাকা করে চা ও পান বিক্রি করে আসছেন। তার দোকানে প্রতিদিন প্রায় ৪শ কাপ চা ৩-৪শ’ বিস্কুট, কেক বিক্রি হয়। অতি সামান্য লাভ করেই তিনি এখন নিজেকে সাবলম্বী করে গড়ে তুলেছেন।
১৯৮৫ সালে নিকবর মোল্লা একই গ্রামের লাইলিকে বিয়ে করে। দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে মালেশিয়াতে কর্মরত এবং ছোট ছেলে ঢাকায় চাকুরি করেন।

নিকবরের স্ত্রী লাইলি বলেন, আমার বাবার বাড়ি একই গ্রামে আমি আমার স্বামীর উদ্যেককে শ্রদ্ধা জানাই। সংসার জীবনে আমি খুবই সুখি। সে আমার সংসার জীবনে যথেষ্ঠ সহযোগীতা করেন। ইউনিয়ন পরিষদ মোড়ের চা বিক্রেতা নিকবর মোল্লা বলেন, শুধু টাকা রোজগার করাই আমার মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। আমি মানুষের খেদমতের উদ্দেশ্য দুই টাকা করে চা ও বিস্কুট বিক্রি করি। আমার ২৪ বছরের ব্যবসায় প্রথম দু’বছর পঞ্চাশ পয়সা করে বিক্রি করি তার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই টাকা করে বিক্রি করি, এটা আর বাড়বে না।

সরকারি বে-সরকারি কোনো আর্থিক সহযোগিতার চাহিদা নেই তার। তবে সর্বস্তরের জন সাধারণের সুবিধার জন্য দুই টাকার মোড়ে দুটি সোলার লাইট দেওয়ার বিবেচনা করার প্রত্যাশা করছেন কর্তা-ব্যক্তিদের কাছে।

ইউনিয়ন পরিষদ মোড়ের চৌধুরী গোলাম মোস্তফা বাদল বলেন, ‘আমাদের এখানে মানুষের বসার জন্য প্রথমে নিকবর মোল্লাকে একটি চায়ের দোকান বসানোর সুযোগদেই। বর্তমানে ছোট-বড় ১০-১২টি দোকান রয়েছে। আমি বেকার সমস্যা লাঘব করার জন্য তাদের প্রতি সহযোগীতা করে আসছি।

পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শেখ আব্দুল হাকিম জানান, ‘ইউনিয়ন পরিষদ মোড় আমার ওয়ার্ড এলাকা সেখানে সকাল এবং বিকালে অনেক লোকজন আসে এবং দীর্ঘদিন যাবৎ নিকবর মোল্লা দুই টাকা করে চা –বিস্কুট বিক্রি করে।
এ ব্যপারে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘এযুগে দুই টাকায় কিছু পাওয়াটা দুরুহ। নিকবর নিজেকে স্বাবলম্বী করেছে। এটা খুবই গর্বের বিষয়। একজন ভালো মনের মানুষ বলেই তিনি এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে তিনি সর্বসাধারনের জন্য সোলার লাইট প্রত্রাশা করেছেন তা অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। এমন উদ্যেগী মানুষের পাশে সবসময় থাকবেন বলে জানান তিনি।

খবরটি প্রকাশিত হয়েছেঃ ডেইলি সানশাইন

রাজশাহী এক্সপ্রেস রাজশাহী বিভাগ কেন্দ্রিক সর্বপ্রথম ইন্টারনেট মিডিয়া। অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজশাহী সম্পর্কিত সব তথ্য গুলোকে সহজে জানার জন্য একত্রিত করে প্রকাশ করাই আমাদের লক্ষ্য। এখানে সংগৃহীত তথ্যগুলোর স্বত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের এবং আমাদের সংগৃহীত প্রতিটা এক্সপ্রেসে সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উদ্ধৃত আছে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

8 thoughts on “দুই টাকা কাপ চায়ে পাঁচ লাখ টাকার মালিক

Comments are closed.