দুদক ঘর থেকেই সংশোধন শুরু করেছে

রাজশাহী

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেতরেই দুর্নীতি রয়ে গেছে। তাই দুদক ঘর থেকেই সংশোধনের কাজ শুরু করেছে’।

মঙ্গলবার (৩১ মে) বেলা ১২টায় রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ মহানগর, জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

তিনি বলেন, আমি গত আড়াই মাসে দেখেছি, অনুসন্ধান-তদন্ত যে সময়ে করার কথা, সে সময়ে করা হয় না। সত্য বলতেই হবে। সত্য বলার পেছনে কিছু নেই। দুর্নীতি দমন কমিশনের হাজার হাজার মামলা ‘ডিপ ফ্রিজে’ জমে আছে। অথচ কথা ছিলো, তারা (দুদক কর্মকর্তারা) ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করবে। আমি একটি মামলাও দেখিনি ৩০ দিনে অনুসন্ধান শেষ হয়েছে। দুঃখের সাথে বলতে হয়, ১০ বছর আগের নথিও আমার কাছে আসে।

দুদকের ভেতরের দুর্নীতি দূর করতে ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন এসব নথি পড়ে রয়েছে- তার ৮৭৩টি ব্যাখা দিতে দুদকের কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। একটি সংস্থা যদি এই অবস্থা চলে, তাহলে কীভাবে সে সংস্থা কাজ করবে! সংস্থার ওপরে কীভাবে মানুষ বিশ্বাস রাখবে! মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। বিশ্বাস সমাজের চালিকা শক্তি। দুদকের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে। তাই আমরা ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি। এসবের প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। কমিশন ঘর থেকেই সংশোধন শুরু করেছে, যোগ করেন তিনি।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, অপরাধীদের এটা ভেবে লাভ নেই, আমরা দমন বাদ দিয়ে প্রতিরোধ করছি। আমরা দমন বাদ দিয়ে প্রতিরোধ করি না। আমরা কাউকে ছাড় দিতে রাজি নই। কথা বলার সময় নেই, এখন সময় এসেছে কিছু করার। সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে আমরা দুর্নীতি রুখবো। আগামী প্রজন্ম চোখ খুলে দেখবে বিশিষ্ট দুর্নীতিবাজরা আইনের আওতায় এসেছে।

দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ ও গবেষণা) ড. মো. শামসুল আরেফিন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আবদুল হান্নান ও পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি খুরশীদ হোসেন।

জেলা পর্যায়ে এ বছর রাজশাহী বিভাগে শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি নির্বাচিত হয়েছে বগুড়া। উপজেলা পর্যায়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি প্রথম, বগুড়ার শেরপুর দ্বিতীয় এবং পাবনার বেড়া তৃতীয় নির্বাচিত হয়েছে। রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছে পঞ্চগড় জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি। এই বিভাগে উপজেলা পর্যায়ে রংপুরের গঙ্গাচড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি প্রথম, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ দ্বিতীয় এবং গাইবন্ধার সাঘাঁটা তৃতীয় নির্বাচিত হয়েছে।

খবরঃ বাংলানিউজ