দুর্গাপুরের এই রাস্তা যেন মরণ ফাঁদ!

দুর্গাপুর রাজশাহী

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ থেকে পাশের বাগমারা উপজেলার রাস্তা। গ্রামের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া পাকা রাস্তাটি দেখতে মনেই হবে না যে এটি একটি রাস্তা। পুরো রাস্তা জুড়ে কিলোমিটার থেকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত খড় বিছানো। এ যেন দুর্ঘটনার একটি মরণফাঁদ।

রাস্তার ওই রাস্তায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মঙ্গলবার গুরুতর আহত হন রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকার সমশের। তিনি দুর্গাপুরের মোহানগঞ্জ হয়ে ওই রাস্তা ধরে বাগমারা যাচ্ছিলেন। শুধু ওই রাস্তাই নয়। গ্রাম অঞ্চলের বেশিরভাগ রাস্তাই এখন এমন দশা। এ কারণে ওইসব খড় বিছানো রাস্তা দিয়ে চলাচল করা মানুষ প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

জেলার দুর্গাপুর, বাগমারা, পুঠিয়া, গোদাগাড়ীসহ আশোপাশের উপজেলার গ্রামের রাস্তাগুলোর এখন একই দশা। এসব এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন, রাস্তার পাশে যারা বসবাস করেন তাদের খড় শুকানোর কাজে রাস্তা ব্যবহার করছে। এ কারণে ওইসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যানবাহন প্রায় সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

দুর্গাপুর উপজেলার ভটভটি চালক আকরাম হোসেন জানান, গ্রামের রাস্তাগুলো ভাঙা থাকে। সে কারণে কোথায় কি আছে তা বোঝা যায় না। সে কারণে খড়ের নিচে থাকা ভাঙা রাস্তা, কোথায় উঁচু, কোথায় নিচু কিছুই বোঝা যায় না। এ কারণে খড়ের উপর দিয়ে রাস্তা চালাতে প্রায় অসুবিধায় পড়তে হয়।

মঙ্গলবার দুর্গাপর উপজেলার শিবপুর এলাকা গিয়ে দেখা যায় যে, ওই এলাকার রাস্তাগুলো খড়ে ঢাকা। খড় বিছিয়ে দেয়া রাস্তার ওপর দিয়ে যানবাহনগুলো অনেক কষ্টে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে চালকরা। কেউ এর মাঝে আবার দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে দেখার কেউ নেই। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে রাস্তা পরিষ্কার রাখার জন্যও নেয়া হয় না তেমন কোনো উদ্যোগ।

দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান আইনাল জানান, এ বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কয়েকবার বলেছি। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি।
তিনি আরো জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য আমি নিজেও কয়েকবার তাদের নিষেধ করেছি। কিন্তু নিজের সুবিধার জন্য কেউ তার কথা শোনেন না।

মাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোল্লা হাসান ফারুক ইমাম সুমন জানান, মাসিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভাতেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থায় নেয়া হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য দুর্গাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বাগমারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সূত্র এবং কৃতজ্ঞতাঃ বাংলামেইল

1 thought on “দুর্গাপুরের এই রাস্তা যেন মরণ ফাঁদ!

Comments are closed.