দুর্গাপুরে ১১ মাসের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

দুর্গাপুর রাজশাহী

রাজশাহীর দুর্গাপুরের আলীপুর গ্রামে স্বর্ণা আকতার শিশির নামের ১১ মাসের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

শিশুটির মায়ের দাবি, তার মেয়েকে বিষপানে হত্যা করা হয়েছে। তবে বাবার দাবি, শিশুটি গত দু’দিন ধরে ডায়রিয়াজনিত রোগে ভুগছিলো।

শুক্রবার (২০ মে) দুপুরে শিশুটির অবস্থা খারাপ হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিকেলে থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল কুমার চক্রবর্তী জানান, পৌর এলাকার গোড়খাই গ্রামের খোকন আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী সুমি বেগমের শিশু কন্যা স্বর্ণা গত দু’দিন ধরে ডায়রিয়াজনিত রোগে ভুগছিল। শুক্রবার দুপুরে দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তির জন্য নিয়ে আনা হয়।

এ সময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির অবস্থা খারাপ দেখে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তির জন্য বলেন। পরে রামেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে উপজেলার আমগাছি এলাকায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করেছে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।

এদিকে, সুমি বেগমের অভিযোগ, সাংসারিক জীবনে স্বামী খোকনের সঙ্গে তার সমস্যা চলছিল। এ কারণে স্বর্ণাকে তার বাবা খোকন বিষ মেশানো লিচু খাইয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

তবে শিশুটির বাবা খোকনের দাবি, তার মেয়ে গত দু’দিন ধরে ডায়রিয়াজনিত রোগে ভুগছিল। কিন্তু বিষয়টি সে জানতো না। তার স্ত্রী সুমি শিশুটিকে নিয়ে আলীপুরে বাবার বাড়িতে থাকতেন।

শুক্রবার সকালেই তাকে ঘটনাটি জানানো হয়। দুপুরে দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাইরে একটি ওষুধের দোকানে স্ত্রী সুমি ও শিশু কন্যার সঙ্গে তার দেখা হয়।

ওই সময় শিশুটি লিচু খেতে চাইলে একটি লিচু শিশুটিকে খাওয়ানো হয়। এর পরপরই শিশুটির অবস্থা খারাপ হলে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মেয়ে মারা যায়।

খবরঃ বাংলানিউজ