নগরীতে কিশোরী অপহরণ; ১৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি

রাজশাহী

রাজশাহী নগরীতে ১৩ বছরের কিশোরীকে এলাকাবাসীর সামনে থেকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যাবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩০জুলাই নগরীর বড় বনগ্রাম নতুন চকপাড়া এলকার এ ঘটনায় তিন জনকে অভিযুক্ত করে শাহমখদুম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন কিশোরীর নানা আনিসুর রহমান। ভুক্তভোগী দরিদ্র পরিবারের দাবি মামলার পর থেকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রাদন করছে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্য।

এদিকে ঘটানার ১৫দিন পেরিয়ে গেলেও অপহৃত কিশোরিকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন। দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের মেয়েকে উদ্ধার করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হোক। অপহরকারী অভিযুক্তরা হলেন, বড়বনগ্রাম নতুন চকপাড়া এলাকার আমির আলীর ছেলে মো: খোকন (২৪), সিরাজুল ইসলামের ছেলে লিটন (২০) ও মৃত সোবহানের ছেলে লালচান (২৩)। এদের মধ্যে লালচানকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে শাহমখদুম থানা কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তে লালচান মামলায় জড়িত রয়েছে বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগী পরিবারের দেয়া তথ্য মতে, মূল আসামী অভিযুক্ত খোকন গত এক বছর পূর্বে বিয়ে করে সংসার করে আসছিল। তবে তার জুয়া, নেশা ও বেকার জীবনে অতিষ্ট হয়ে নববধুটি সম্প্রতি সংসার ত্যগ করতে বাধ্য হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, অপহৃত কিশোরী স্থানীয় ব্রাক এনজিওর ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। স্কুলে যাওয়া-আসা করার সময় অভিযুক্ত প্রতিবেশী খোকন বহুদিন থেকেই প্রলোভনের মাধ্যমে প্রেম নিবেদন করে আসছিল। কিশোরী অতিষ্ট হয়ে বিষয়টি তার নানাসহ পরিবারের অন্যদের জানায়। পরে অভিযুক্ত খোকন ও তার পরিবারকে ডেকে বিষয়টি জানানো হয় ও কিশোরীকে আর বিরক্ত না করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এর পর গত ৩০জুলাই রাসিক নির্বাচনের দিন সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটায় খোকন তার সহযোগী মো: লিটন, মো: লালচানের সহযোগীতায় সিএনজি নিয়ে এসে কিশোরীর বাড়ির সামনে থেকে তাকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। মামলায় স্থানীয় ৪জন প্রত্যক্ষদর্শীকে সাক্ষী হিসেবে নামসহ উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত খোকনের বড় ভাই বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অপহরণের ঘটনায় আমরা স্বপরিবারে লজ্জিত। আমি আমার ফুপাত শালির সাথে খোকনের বিয়ে দিয়েছিলাম। খোকনের স্বভাব চরিত্রের কারণে সেই মেয়ে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এখন নতুন করে খোকন আবার এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরাও চেষ্টা করছি তাকে খুজে নিয়ে আসতে।

কিশোরীর বড় ভাই জানান, মামলার পর থেকে লিটনের বড়ভাই শাহাদত তাকে মামলা তুরে নিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলেছে, লিটনকে জেলে যেতে হলে কাওকে ঠিক থাকতে দিবো না। এদিকে কিশোরীর নানার অভিযোগ লালচানকে থানায় নিয়ে যাবার পর থেকে তার মামা জানের সবসময় মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি আরও অভিযোগ করে জানিয়েছেন, অপহরণ ঘটনার এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কিশোরীকে উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন।

শাহমখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, এবিষয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সম্পৃক্ততায় একজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে খোকনের লোকেশন ট্রাক করার চেষ্টা চলছে। তবে সে বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছে। তবে দ্রুতই কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রাকশ করেন।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ ডেইলি সানশাইন