নাটোরে বিরল রোগে আক্রান্ত কালুর দুর্বিসহ জীবন

নাটোর রাজশাহী বিভাগ

নাটোরে বাগাতিপাড়ার আলমগীর হোসেন কালু বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। অর্থাভাবে সু-চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত সে। তার বয়স ৩৩ বছর। বৃদ্ধা মাকে নিয়ে অসুস্থ কালু মানবেতরভাবে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের ত্রিমোহনীয়া গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, তিন ভাই এর মধ্যে কালু বড়। তার বাবা ১২ বছর পূর্বে দ্বিতীয় বিয়ে করে পৃথক সংসার করছেন। ছেলেসহ প্রথম স্ত্রীর খোঁজ রাখেন না তিনি। ছোট দুই ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছে। এদিকে কালু বিয়ে করলেও শারীরিক অসুস্থতার কারনে সংসার টেকেনি। শাররিরীকভাবে অসুস্থ কালু এখন বাজারে কমলা বিক্রি করেন। তাই দিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী মা নাসিয়া কে নিয়ে এখন দুবেলা দু মুঠো খাবার খেয়ে না খেয়ে দিন চলে তার।

কালু জানান, তাঁর বয়স যখন দশ। তখন তাঁকে কুকুরে কামড় দেয়। সেসময় তার চিকিৎসাও নেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে মাঝে মধ্যেই শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে তার দেহে অসংখ্য মসুর দানার মত গুটি দেখা দেয়। এ ঘটনা প্রায় ১৫ বছর পূর্বে।

সেসময় গুটি গুলোর কোন ব্যথা ছিল না। বর্তমান তাঁর দেহে সহস্রাধিক ছোট বড় টিউমার জাতীয় গুটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ টি গুটি বড় হয়েছে। অন্যগুলিও বড় হচ্ছে। গুটিগুলোর বেশিরভাগই পিঠে রয়েছে। ঘুমানোর সময় বেশ কষ্ট পান।

মাঝে মাঝে দু-একটি বড় গুটি চুলকায়, জ্বালা করে ও পেকে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ জাতীয় পদার্থ বের হয়। ক্ষত অল্প দিনের মধ্যেই শুকিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, আগুন বা রোদের তাপ তিনি সহ্য করতে পারেন না। রোদে মাঠে কাজ করতেও পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা বয়ে বেড়ালেও অর্থাভাবে ভাল কোন চিকিৎসককে দেখাতে পারেননি।

এব্যাপারে বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, তাকে না দেখে বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে কিছু বলা যাবেনা। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন