নাটোরে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন ॥

নাটোর

নাটোরে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা আতিয়া খাতুন আশার দুই দিনের অনশন। অতপর নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি। এদিকে ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন প্রেমিক হাফিজুর রহমান। শুক্রবার নাটোর সদর উপজেলার মোকরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে বিষয়টি পুলিশী মিমাংসার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
আতিয়া খাতুন আশার বাবা আলতাফ হোসেন ও এলাকাবাসী জানায়, সদর উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের কলেজ পড়–য়া মেয়ে আতিয়া খাতুন আশার সাথে পাশের মোকরামপুর গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে হাফিজুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলে এ প্রেম। ঘটনাটি এলাকার অনেকেরই নজরে পড়ে। এনিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা কল্পনাও উঠে আসে এলাকাবাসীর মধ্যে। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক হাফিজুরের পরিবারের লোকজন মানতে নারাজ। তারা গোপনে তাদের ছেলে হাফিজুরের অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যহহয়ে উঠেন। ঘটনাটি প্রেমিকা আতিয়া খাতুন আশা জানতে পেয়ে হাফিজুরের কাছে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু কোন ভাবেই হাফিজুর আশাকে বিয়ে করতে রাজী হয়না। এরমধ্যে হাফিজুরের পরিবার থেকে হাফিজুররে বিয়ে ঠিক করেন অন্যত্র। এরই এক পর্যায়ে আতিয়া খাতুন আশা বিয়ের দাবিতে শুক্রবার হাফিজের বাড়িতে গিয়ে উঠে। এরপর ছেলে ও মেয়ে পক্ষকে সাথে নিয়ে এলাকার লোকজন সমঝোতায় বসে। তাতে সিন্ধান্ত হয় দিনক্ষণ ঠিক করে দুজনার বিয়ে দেওয়া হবে। এরই ফাঁকে হাফিজুরের পরিবারের লোকজন হাফিজুরকে বাড়ী থেকে অন্যত্র সড়িয়ে দেয় এবং আশাকে তার বাড়ীতে ফিরে যেতে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু আশা কোন ভাবেই তা মানতে নারাজ। সে হফিজুরকেই বিয়ে করবে বলে সকলকে জানিয়ে দেয়। এনিয়ে হাফিজুরের পরিবারের সদস্যরা আশাকে বাড়ী থেকৈ বের করে দিতে চাইলে আশা সেখানে অবস্থান নেয় এবং বিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত অনশনের ঘোষনা দেয়। এদিকে আশার এই অনশনের ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পরলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে শনিবার রাতে পুলিশ হাফিজুরের বাড়ীতে গিয়ে আশাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে আশা অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে রাতেই নাটোরের আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আশা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে নাটোর সদর থানার উপ-পরিদর্শক আকতারুজ্জামান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য আশাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লে আশাকে হাসপাতালে ভর্তি করে তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। আশা সুস্থ্য হলেই এর মিমাংসা করা হবে। এজন্য আশা ও হাফিজুরের পরিবারকে বলা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক ভাবে বসে সমাধান করে দেওয়া হবে।