নিউ জেএমবির ‘হটস্পট’ ফের রাজশাহী!

রাজশাহী

দুই দেশের জঙ্গীদের তৎপরতার কেন্দ্রে কি গোদাগাড়ীসহ রাজশাহী সীমান্ত? বাংলাদেশে এবং ভারতে বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে চলছে জঙ্গী বিরোধী অভিযান। বিশেষত জেএমবি জঙ্গীদের বিরুদ্ধে যুগপৎ অভিযান চালাছে দুই দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

দুই দেশের জঙ্গী বিরোধী বাহিনী অভিযানে পরস্পর সহযোগিতা করছে। তথ্য আদান প্রদান থেকে শুরু করে বন্দী বিনিময় চলছে দুই দেশের মধ্যে। তবে এই অভিযানে বেকায়দায় থাকা জঙ্গীরা আস্তানা গেঁড়েছে গোদাগাড়ী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জঙ্গী তৎপরতার জন্য রাজশাহীর অরক্ষিত চরগুলো নজরদারির মধ্যে রয়েছে। মূলত পদ্মার বিস্তীর্ণ চর তাদের আস্তানা স্থাপন এবং চলাচলের জন্য সহজ এলাকা। এখানে কাঁটাতারের বেড়া নেই। যার করণে অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তা ছাড়া রাজশাহী এলাকায় জঙ্গী তৎপরতা অনেক পুরোনো। বাগমারাসহ বিভিন্ন এলাকা আগে থেকেই চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিও জেএমবি ভিন্ন আঙ্গিকে তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের তৎপরতা চালচ্ছে। সে দিকেও নজর দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞা বলেন, রাজশাহীতে এই জঙ্গীদের আস্তানা ছিল। বাগমারা বা এর আশেপাশে এদের আস্তানা ছিল। ব্যাপক তৎপরতার কারনে তারা এলাকা ছাড়ে। আবার তারা এলাকই ফিরছে। পুলিশও তৎপর রয়েছে। যার কারনে এরা ধরা পড়ছে। এছাড়া রাজশাহী সীমান্তবর্তী এলাকা এর সুযোগও তারা নিতে চেষ্টা করছে। পাশ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ এলাকায় ওই মতাদর্শিদের সহায়তা পেরে। তবে এই চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ সজাগ রয়েছে।

তবে এই অঞ্চলের চরগুলো আগে থেকেই জঙ্গী তৎপরতার জন্য কুখ্যাত। বিশেষত মুর্শিদাবাদের চরাঞ্চলের বিষয়ে ভারতের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যে জানাযায় ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা জঙ্গীপুরে প্রথম ঘাঁটি গাঁড়ে জেএমবি। এই গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ এবং বর্ধমান এলাকায়। এছাড়া আসাম এবং ঝাড়খন্ড রাজ্যে তৎপরতা রয়ে এই গোষ্ঠীর। আসামের ধুবড়ি, চিড়াং এবং শিলচর এলাকায় তৎপরতা বেশি বলে জানাচ্ছে ভারতীয় পত্রিকা গুলো। পশ্চিমবঙ্গে এই গোষ্ঠীর তৎপরতা নজরে আসে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরনের পর। ২০১৫ সালের অক্টোবরে এই দূর্ঘটনা ঘটে। এসময় একটি জঙ্গী আস্তানায় ডেটোনেটর সমৃদ্ধ বিস্ফোরক তৈরির সময় বিস্ফোরন ঘটে। বলা হয় এই বোমা বাংলাদেশে প্রেরণের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। ২০০৫ সালে অস্থিতিশীল সময়ে বাংলাদেশে যে ধ্বংশযজ্ঞ চলে তার রসদ পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছিল বলে ওইসব রিপোর্টে বলা হয়। পশ্চিমবঙ্গে জেএমবির ৫০টি আস্তানা রয়েছে। যে গুলোতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয়া জঙ্গীরাও ছিল বলে জানায় ভারতীয় গেয়েন্দারা। ভারতের জঙ্গী তৎপরতার মূলে রয়েছে কাউসার ওরফে বোমা মিজান এবং সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা নসরুল্লাহ। এ ছাড়া এই তৎপরতায় বিভিন্ন সময়ে এসেছে জঙ্গী তরিকুল ইসলামের নাম। ভারতের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ মামলার অন্তত ছয়জনকে ভারতীয় এবং বাংলাদেশের গোয়েন্দারা খুঁজছে যাদের বাড়ি বাংলাদেশে।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন