নোটিশে ‘কান’ নেই দখলদারদের

রাজশাহী

নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি তাদের সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) উদ্যোগে নগরের ফুটপাত দখলমুক্ত ও সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলতে প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে ও সড়কে মাইকিং করা হচ্ছে। মাইকিং করে জানানো হয়, ৩ এপ্রিলের মধ্যে নগরের প্রতিটি ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যারা সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে তুলেছেন তাদেরকেও সেই স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন মেয়র। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা মানেন নি দখলদারেরা।

এর আগে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর সেপ্টেম্বরের দিকে প্রতিটি ওয়ার্ডে ও সড়কগুলোতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে রাখা ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে বলে এসেছিলেন ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে ব্যবসা করতে। যাতে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে না হয়। তিনি এসময় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, অনুরোধ না রাখলে এরপর জরিমানা করা হবে।

তবে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাত ও সড়ক ঘুরে দেখা যায়, অবৈধ দখলদারেরা ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কেও তাদের দখল বজায় রেখেছে। এমনকি অবৈধভাবে যেসকল স্থাপনা রয়েছে তাও বহাল তবিয়তেই আছে। কার্যত এই দখলদারেরা মেয়রের অনুরোধকে উপেক্ষা করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিতে পিছু হটেনি।

নগরের সাহেববাজার এলাকার ঘুরে দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা প্রধান সড়ক দখল করে তাদের ব্যবসার পসরা সাজিয়ে রেখেছেন। আর ফুটপাত সংলগ্ন অনেক দোকানদাররা তাদের মালামাল ফুটপাতজুড়ে সাজিয়ে রেখেছেন। একই চিত্র গণকপাড়া মোড়, সাগরপাড়া, ঢাকা টার্মিনাল এলাকা, কামারুজ্জামান চত্বর, নিউমার্কেট এলাকা, উপশহর নিউমার্কেট এলাকা, ভদ্রার মোড়, লক্ষীপুর মোড়, কাজলা মোড়, বিনোদপুর মোড়সহ প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপুর্ণ মোড় ও সড়কের।

অবৈধ দখলদাররা এখন ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কগুলোকেও তাদের দখলে নিয়ে রেখেছে। এদিকে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের সাথে পাল্লা দিয়ে স্থানীয় বাড়ির মালিকেরা ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ভবন নির্মাণ সামগ্রী দিনের পর দিন রেখে কাজ করছেন। এতে করে একদিকে যেমন সড়ক ও ফুটপাতদিয়ে নগরবাসীর চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তেমনি নির্মাণসামগ্রির কারণে নষ্ট হচ্ছে সেই ফুটপাত ও সড়ক। ফলে নগরবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে এসকল ফুটপাত ও সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে।

উপশহর এলাকার বাসিন্দা বসির আহমেদ বলেন, সময়ের পরিক্রমায় রাজশাহী নগরে এখন জনসংখ্যা প্রায় ৯ লাখ। একসময়ের অবহেলিত নগরী নানা কারণে উত্তরাঞ্চলসহ পুরো দেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর একারণেই প্রতিনিয়তই শহরে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই যেকোনো মূল্যে এখনই রাসিকের পাশাপাশি সরকার সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে নগরীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে হতে হবে কঠোর।
সাগরপাড়া বটতলা এলাকার বাসিন্দা সিকান্দার ফয়েজ অভিযোগ করে বলেন, ফুটপাত অবৈধ দখলদারমুক্ত নগরী করা স্থানীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়। কারণ অবৈধ দখল বসিয়ে যে কজন ব্যবসা করে তার চাইতে বহুগুণ বেশি মানুষ তাদের কর্মকাণ্ডে দুর্ভোগে পড়ে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চাইলেই পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে নগরীর ফুটপাতগুলো দখলদারমুক্ত করে দিতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন এলাকায় এখন রাস্তার ওপর কাঁচাবাজার বসানো হচ্ছে। এই বাজার থেকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলারদের প্রতিনিধি গিয়ে ব্যবসায়ীদের থেকে প্রতি দিন টাকা তুলছে।

এদিকে রাসিকের ম্যজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বলেন, অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের স্বেচ্ছায় সরে যেতে সময় দিয়ে নগরীতে মাইকিং করা হয়েছে। এর পরেও যারা সময়মতো সরে যায়নি তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই রাসিক স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নামবে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ Daily Sunshine