পদ্মার চরে যেতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিষেধাজ্ঞা!

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

‘নিরাপত্তার’ স্বার্থে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের পদ্মার চরে অনিরাপদ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের সভাপতিকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে।

রাবির রেজিস্ট্রার ড. মুহাম্মদ এন্তাজুল হক স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রছাত্রীরা পদ্মার চরে বেড়াতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের দ্বারা ছিনতাই, মারধর, জিম্মি হওয়াসহ নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পদ্মার চরে অনিরাপদ ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো।

বিষয়টিকে অতিজরুরি বিবেচনা করে ছাত্রছাত্রীসহ অধীনস্থ সবার মধ্যে প্রচার ও অবহিতকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সব বিভাগীয় ও দপ্তরপ্রধানকে অনুরোধ করা হলো বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠি পাওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘মানসিক বিকাশের জন্য তো শিক্ষার্থীরা ওখানে যাবেই, শিক্ষকরাও তো পরিবার নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত, তাই বলে পদ্মার পাড়ে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া এটা কোনো সমাধান না। মাথাব্যথা হলে চিকিৎসা করে সমাধান করতে হবে। মাথা কেটে ফেলা তো কোনো সমাধান না। বরং কীভাবে এর সমাধান করা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত আইন প্রশাসনকে সে বিষয়ে সহযোগিতা করা।’

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক উল্লেখ করে প্রাণিবিদ্যা ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী তপন রায় ও নিমেল রায় বলেন, তাঁদের ক্যাম্পাসেও তো প্রতিনিয়ত ছিনতাই হয়। তাই বলে তো তাঁরা ক্যাম্পাসে যাওয়া বন্ধ করে দেন না। তা ছাড়া পদ্মার পাড় বিনোদন কেন্দ্র, সেখানে তাঁরা বিনোদন নিতে অবশ্যই যাবেন। সেখানে যদি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে যারা দোষী তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীরা অপরাধ করবে, আর সেটার শাস্তি শিক্ষার্থীরা পাবেন এটা হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা না করে শিক্ষার্থীদের পদ্মার পাড়ে যেতে নিষেধ করছে! এটা হাস্যকরই বটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আবদুল মজিদ অন্তর বলেন, ‘পদ্মার পাড়ে জনসাধারণকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। বাইরে গেলে আপনি ছিনতাইয়ের কবলে পড়তে পারেন। তাই কেউ বাইরে যাবেন না, এটা তো হতে পারে না। আমাদের ওপর এ ধরনের বাধা-নিষেধ আরোপের মানে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আরো ঘরমুখী করে তোলা। এমনিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য আইন জারি আছে। রাবি প্রশাসনের এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাকে খর্ব করা হচ্ছে।’

নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম আবদুস সোবহান বলেন, ‘আমি এখন ঢাকায় আছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনই বলতে পারছি না। বিস্তারিত জেনে তারপর মন্তব্য করতে পারব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

খবরঃ এনটিভি