পদ্মার বাধ সংরক্ষণ ও ভাঙনের কবল থেকে রাজশাহীবাসীকে রক্ষার দাবি

অন্যান্য খবর রাজশাহী

vngn

লিখেছেন তামান্না ইয়াসমিন॥ বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই পদ্মা নদীর বাধ সংরক্ষণ ও ভাঙনের কবল থেকে রাজশাহীবাসীকে রক্ষার দাবিতে রাজশাহীতে বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ গতকাল মঙ্গলবার নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে একাত্মতা প্রকাশ ও রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ও ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পদ্মার বাধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে পদক্ষেপ না নিলে রাজশাহীবাসী বসে থাকবে না।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সহসভাপতি ডা. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মনিরুজ্জামান মণি, সাংবাদিক নেতা হাসান মিল্লাত, ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুনার রশিদ, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাংগাঠনিক সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মঞ্জুর হাসান মিঠু, আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু, রাবি শিক্ষক ড. সুজিত সরকার, মহিলা পরিষদের রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক কল্পনা রায়, প্রকৌশলী খাজা তারেক, রাসিকের কাউন্সিলর সামশুন্নাহার, রাজশাহী জেলা লোকমোর্চর নেতা আলাউদ্দিন আল আজাদ, সাংস্কৃতিকর্মী মনিরা রহমান মিঠি, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজান আলী বরজাহান, পবা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফুল হক তোতা, এনজিও ব্যক্তিত্ব ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী, সমাজ সেবক জালাল উদ্দিন আহম্দ, এম শরিফ ও আব্দুল মতিন প্রমুখ। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধন চলাকালিন হুশিয়ারি উচ্চারন করে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, রাজশাহীর বুলনপুর, গহমাবোনা, নবগঙ্গা, হাড়–পুর, সোনাইকান্দি, শ্মশানঘাট, খানপুর, খিদিরপুর, ইউসুফপুর, গোদাগাড়ী, বাঘা, চারঘাট, এলাকায় বিগত বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক মানুষ নি:স্ব হয়। সরকারি সম্পদ ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলিন হয়। তাই আগামী বর্ষার আগে নদীতীর সংরক্ষণ ও বাধ নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে রাজশাহীবাসী চরম ঝুকির মুখে পড়বেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে জামাত খান আরো বলেন, নদী ভাঙ্গনরোধে এখনো প্রয়োজনীয় বরাদ্দ হয়নি। বর্ষার আগে নদীতীর সংরক্ষনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া হলে রাজশাহী নগরীসহ তীরবর্তি এলাকা চরম ভাঙনের মুখে পড়বে। তিনি আরো বলেন, নদী রক্ষাই সরকার ইতিমধ্যে সীমান্ত নদী এলাকাসমুহে অর্থ ছাড় দেয়া হলেও বিভাগীয় শহর রাজশাহীকে রক্ষায় কোনো অর্থ ছাড় দেয়া হয়নি। অথচ সিরাজগঞ্জ, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ সাপেক্ষ কাজ শুরু হয়েছে। তবে রহস্যজনক কারণে রাজশাহীর সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীবাসী আন্দোলন সংগ্রাম করে আসলেও রাজশাহীবাসীকে বরাবরের মতো এবারো উপেক্ষায় রাখা হয়েছে।

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বক্তারা অবিলম্বে পদ্মা নদীর রক্ষায় বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে রাজশাহীবাসী আর মানববন্ধন করবে না। রাস্তায় নেমে সারাধন মানুষকে নিয়ে অবরোধ ও সংশ্লিষ্ট দফতর এবং জেলা প্রশাসন ঘেরাও করা হবে। প্রয়োজনে রাজশাহী অচল করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয় মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.