পদ্মায় অবাধে নিধন হচ্ছে ইলিশ

রাজশাহী

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও রাজশাহীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মার বিভিন্ন জায়গায় চলছে ইলিশ নিধন চলছে। মৎস্য বিভাগ ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলেরা নদীতে জাল ফেলে দেদারচে মা ইলিশ নিধন করে যাচ্ছে।
১২ অক্টোবর থেকে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ মাছের ডিম ছাড়ার প্রজনন সময়। তাই সারা দেশে এ ২০ দিন মা ইলিশ ধরা, বিক্রি ও মজুদ ও পরিবহন করা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তবে থেমে নেই অসাধু জেলেরা। গোপনে তারা পদ্মায় ইলিশ মাছ ধরছে। এসব মাছ বাজার দরের চেয়ে অনেক কম মূল্যে জেলেরা মাছ বিক্রি করছে আড়ৎদার ও পাইকারসহ সাধারণ ক্রেতাদের কাছে। এসব মাছ কিনে নিয়ে আড়ৎদাররা হিমায়িত করে রাখছেন। রাজশাহী মহানগরী থেকে শুরু করে চারঘাট, বাঘা ও পাশের চাঁপাইনবাবগঞ্জেও চলছে ইলিশ ধরা।
রাজশাহী মহানগরীর পাঠানপাড়া এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকেও ইলিশ মাছ, কারেন্ট জাল ও এ মাছ ধরার অপরাধে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

আমাদের স্টাফ রিপোর্টার, চারঘাট ও বাঘা এবং শিবগঞ্জ প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ অনুযায়ি। সোমবার রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমানে কারেন্ট জাল, মা ইলিশসহ এক জেলেকে আটক করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
চারঘাট: চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ ও ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে দিনভর চলে পদ্মায় সাড়াশি অভিযান। এ সময় আটক করা হয় বিপুল পরিমানের কারেন্ট জাল, মা ইলিশসহ শরিফুল ইসলাম(৪০) নামে এক জেলেকে। আটক শরিফুল ইসলাম উপজেলার মোক্তারপুর এলাকার শমশের আলীর ছেলে।

ভ্রাম্যমান আদালতে শরিফুলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা ও আটককৃত মাছ গুলো উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, সরকার ইলিশ মাছ ধরা, বহন করা, বিক্রি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণার পর থেকেই পদ্মায় নজরদারী রাখা হচ্ছে। কিন্তু এক শ্রেণির জেলে প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে রাতের আধারে পদ্মায় মাছ শিকার অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বাঘা: রাজশাহীর বাঘার পদ্মা নদীতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ অভিযান চলে। এবারের অভিযানে ২৫ হাজার মিটার জাল সহ গত দেড় সপ্তাহে প্রায় ৩০ লাখ টাকার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ, জুয়েল আহম্মেদ, এএসপি তারেখ দিপু এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র শাহা-সহ বিজিবি ও বাঘা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বাঘার মীরগঞ্জ, আলাইপুর, কিশোরপুর ও চকরাজাপুর এলাকার পদ্মায় মোবাইল কোটের মাধ্যমে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ২৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল আটক করা হয়। যার মূল্যে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম জানান, সোম বারের বিশেষ অভিযান ছাড়াও গত ১০ দিনে প্রায় ৪০ হাজার মিটার জাল আটক করা হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর ঠুঠাপাড়া, রামনাথপুর থেকে শুরু করে মনোহরপুর হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সুন্দরপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকজুড়ে চলছে মা ইলিশ ও জটকা ধরার মহাযজ্ঞ। বিভিন্ন গ্রামে খুচরাভাবে পানির দরে এসব মাছ গোপনে বিক্রি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা বরন কুমার জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যেই তাদের নজরে এসেছে। স্বল্প লোকবল নিয়ে রবিবার সকালে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রোববার ৩০ কেজি, সোমবার ১৭ কেজি ইলিশ মাছ এবং ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন