পদ্মায় ভাঙ্গন, সঙ্কটে পাড়ের মানুষ

গোদাগাড়ী রাজশাহী

পদ্মায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমা ছুই ছুই। উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকদিনের ব্যবধানে ফুলে ফেপে উত্তাল রূপ ধারণ করেছে পদ্মা। পদ্মার উত্তালায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শুরু হয়েছে পদ্মা পাড়ের ভাঙ্গন। এমতাবস্থায় পরিবার-পরিজন ও গবাদি পশুদের নিয়ে সঙ্কটের মুখে পড়েছে এলাকাবাসী। পদ্মা নদীর তীর ভাঙ্গাই আতংকিত হয়ে দিনপার পার করছে পদ্মা পাড়ের মানুষ।

এদিকে পানি বাড়ায় চরাঞ্চলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ, সারাংপুর, হাটপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশাল ভাঙ্গন। হুমকির মুখে রয়েছে ওই এলাকার বাড়ী ঘর, স্কুল মাদ্রাসা, মসজিদ ও শাহ সুলতানের মাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। অনেককেই দেখা যাচ্ছে বাড়ী ঘর থেকে মালামাল, গরু ও ছাগল সরিয়ে নিরাপদ আশ্রায় স্থলে নিয়ে যাচ্ছে।

কয়েকদিন ধরে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ১৬ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানি বাড়ছে। গত তিনদিনের ব্যবধানে পদ্মায় পানি বিপদ সীমা ছুই ছুই। পাউবোর দেয়া তথ্যানুযায়ী পদ্মার পানি বিপদসীমার মাত্র শূন্য দশমিক ৩০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী নগরীসহ পবা উপজেলার নবগঙ্গা এলাকাসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এপারের বড়কুঠি ও বিজিবি পার্কেও পানি উঠেছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার লোকজন জানান, আমরা গরীব মানুষ বরেন্দ্র অঞ্চলে গিয়ে জমি ক্রয় করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের যাওয়ার আর কোন পথ নেই। তাই ভাঙ্গন কবলিত এলাকাই নিরুপাই হয়ে বসবাস করতে হছে।

ভাঙ্গন কবলিত সুলতানগঞ্জ এলাকার কাজী মোজাম্মেল জানান, ২০০১ সালের দিকে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে রাজাবাড়ী থেকে বালিয়াঘাট্টা পর্যন্ত নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের জন্য তৎকালিন সরকার ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। কাজও শুরু হয়েছিল। প্রায় ৯৮ কোটি টাকার কাজ হলেও নির্দিষ্ট সময়ে নদীর তীর রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করতে না পারায় ২০০৯ সালের দিকে ৮২ কোটি টাকা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ফেরত চলে যায়।

নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের নীচের ব্লক ও ইট সরে যাওয়ার কারণে বাঁধ মূহুর্মুহ ভেঙ্গে যাচ্ছে। আজ থেকে কয়েক বছর আগেই বাঁধের ব্লক পাথর ভেঙ্গে নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে গোদাগাড়ী উপজেলার হাটপাড়া, সুলতানগঞ্জ এলাকার বাঁধ নির্মাণের জন্য জোর আবেদন জানান এলাকাবাসী।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন