পবায় ডাকবাংলার বেহাল দশা

পবা রাজশাহী

পবায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলার বেহাল দশা। ভবনের দেয়ালের অনেক স্থানে পলেস্টার খোসে পড়ছে। দেখার কেউ নেই। এমনকি সাইনবোর্ড দেখেও বুঝার উপায় নাই যে এই জরাজীর্ণ ভবনটি কোন দপ্তরের। অভিভাবকহীন রাজশাহী জেলা পরিষদের এই ডাকবাংলাটিতে এখন ভুতড়ে অবস্থা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, আজ থেকে ২৮-২৯ বছর আগে পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাশেই জেলা পরিষদের এই ডাকবাংলা। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের আমলে শিল্প প্রতিমন্ত্রী মেজবাউল হক বাবলুর উদ্যোগে রাজশাহী জেলা পরিষদ ডাকবাংলাটি নির্মাণ করেন। একদিকে ওই এলাকা অনেকটা নিরাপত্তাহীন এবং অন্যদিকে যোগাযোগা ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় অতিথিরা রাজশাহী মহানগরীতে অবস্থান করে থাকেন বলে একটি সূত্র জানান।
রাজশাহী মহানগরী থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে তানোর ও গোদাগাড়ি উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাশেই ডাকবাংলাটির অবস্থান।

কয়েকদিন আগে সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের বাহিরে প্রাচির রয়েছে। আর প্রাচিরের এক কোনায় রয়েছে মসজিদ। মূল ভবনটি জরাজীর্ণ। আর অযত্ন ও অবহেলায় ভবনের চারপাশের দেয়ালের মতই প্রাচিরের অবস্থা। সংস্কারের অভাব ও বৃষ্টির পানিতে ভবনের দেয়াল ও প্রাচিরের পলেস্টার ভুষভুষে হয়ে গেছে। হাত দিলেই ছেদলাসহ পলেস্টার খোসে পড়ছে। আর একটি সাইনবোর্ড থাকলেও ময়নাতদন্ত করেও স্থাপনের বছরটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ডাকবাংলাটিতে কাউকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো গড়হাজিরে একজন পিয়ন আছেন। তিনি শুধু রাতে আসেন। স্থানীয় অনেকের কাছে খোঁজ নিয়েও পিয়নের মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনেকেই বলেন বাহিরের যে অবস্থা ভিতরে এর চেয়ে ভাল হবে না। তারা বোঝাতে চাইলেন। ভবনের ভিতরে আসবাবপত্রেও বারোটা বেজেছে। হয়তো অতিথি তো নয়ই-সাধারণ মানুষের ব্যবহারেও অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এরপাশেই দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে একটি শহীদ মিনার নির্মিত হচ্ছে। সেখানে কাজের তদারকি করছিলেন চেয়ারম্যান কামরুল হাসান রাজ। তিনি বলেন যতদুর সম্ভব এই ডাকবাংলাটি ১৯৮৮-৮৯ সালের দিকে নির্মিত হয়। তখন শুধু ভবনটি ছিল। তার আগের টার্মের চেয়ারম্যান রমজান আলী প্রাচির নির্মাণ করেন বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, ভবন, মসজিদ সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংস্কার এখনো আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে।

রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার জরাজীর্ণতার বিষয় স্বীকার করে বলেন, বেশ কয়েকটি ডাকবাংলার অবস্থা খুবই খারাপ। এর আগেও জেলা পরিষদের অনেক চেয়ারম্যান ও মনোনীত ব্যক্তি ছিলেন তিনিও আছেন। তাঁর কাজই প্রমাণ দিবে তিনি এসব বিষয়ে আন্তরিক। তিনি আরো বলেন, জেলা পরিষদের জনবল খুবই কম। আর ডাকবাংলার পিয়নদের বেতন মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, এই স্বল্প বেতনে ভাল সার্ভিস দেয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলতি সময়ে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, গোরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়নে অনুদান দেয়া হয়েছে। এবারে জরাজীর্ণ ডাকবাংলা সংস্কারে তিনি পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন

1 thought on “পবায় ডাকবাংলার বেহাল দশা

Comments are closed.