পশ্চিম রেলের রেকর্ড শিডিউল বিপর্যয়ে তদন্ত কমিটি

রাজশাহী

স্মরণকালের রেকর্ড ভেঙে পশ্চিম রেলওয়ের শিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের সাড়ে ৩৩ ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেন ছাড়ার নতুন নজির সৃষ্টি হওয়ায় বলা হয়েছে এ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করতে। এজন্য তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে এই পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি খতিয়ে দেখবে কী কারণে এমন বিপর্যয় ঘটেছে।

এছাড়া রেলপথ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব শাখায় সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এছাড়া অন্য কারণে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে এরই মধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চলে রেলওয়ের নতুন মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদানের পর হারুন-অর-রশীদ বুধবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ‘সারপ্রাইজ ইন্সপেকশনে’ রেলওয়ে স্টেশনে যান।

তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় স্টেশনের ওয়েটিং রুমের বেসিন, টয়লেট ও পরিবেশ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলামকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন নতুন মহাব্যবস্থাপক।

শিডিউল বিপর্যয় প্রশ্নে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সুপারিন্টেনডেন্ট আব্দুল করিম জানান, ঈশ্বরদী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন। ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে যোগাযোগে ২৪ ঘণ্টায় ২৪টি ট্রেন চালানোর সক্ষমতা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। কিন্তু বর্তমানে চলাচল করছে ৪৪টি ট্রেন। আর বিরতিহীন ট্রেন চলে তিনটি। এমন জটের মধ্যে বিরতিহীন ট্রেনগুলোকে পারাপারে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। ফলে অন্য সব ট্রেনই পড়ছে বিলম্বের কবলে।

তবে এই স্মরণকালের ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চল সদর দফতরে প্রতিদিনই দফায় দফায় বৈঠকে বসছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। এছাড়া রেলসেবায় কারও গাফিলতি পেলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে সব শাখায় সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের নবনিযুক্ত মহাব্যবস্থাপক মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, যাত্রীরা যেন কোনোভাবেই দুর্ভোগে না পড়েন সে ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। সেজন্য সেবার মান ঠিক করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

এজন্যই শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, ঈদের আগে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বে ও ঈদের পর কোর্টচাঁদপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়৷ এ ঘটনার প্রভাবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের শিডিউল ভেঙে পড়ে। কোনো ট্রেনেরই এখন আর সময়সূচি ঠিক নেই। সকালের ট্রেন রাতে, রাতের ট্রেন যাচ্ছে পরদিন সকালে! বিপর্যয়ের নতুন নজির সৃষ্টি করে।

এভাবেই চলছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেন। তবে প্রতিটি ট্রেন সাপ্তাহিক ডে-অফ পেলে শিডিউলে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কর্মকর্তারা। বাড়তি সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ঈদের ছুটির আগের সাত দিন ও পরের সাত দিন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সব ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছিল।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর