পাঁচদিন বিদ্যুতবিহীন গোদাগাড়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ভোগান্তিতে রোগীরা

গোদাগাড়ী

bddut

গত শনিবার থেকে বিদ্যুৎ নেই রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে থমকে গেছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিদ্যুতহীন ভুতুড়ে পরিবেশের এই হাসপাতালে বেশির ভাগ রোগি ভর্তি থাকছেন না। আবার কষ্ট করে যাঁরা ভর্তি থাকছেন, তাঁরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

গত শনিবার বিকেলে মাত্র ২২ মিনিটের প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে গোদাগাড়ীর বেশিরভাগ এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ সংযোগ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এরপর থেকেই উপজেলার প্রেমতলী এলাকায় অবস্থিত ৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিদ্যুতহীন হয়ে পড়ে। একই কারণে গত শনিবার থেকেই উপজেলার বিজয়নগর-মাটিকাটা বাইপাস পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার এলাকা বিদ্যুতহীন রয়েছে। এর আগে দু’দিন চেষ্টার পর উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে এখনো পর্যন্ত উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা অন্ধকারে রয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যুতের অভাবে চরম ভ্যাপসা গরমের মধ্যেও রোগিরা অসহায় হয়ে শুয়ে আছেন। কিন্তু পানির সংকটের কারণে টয়লেটের গন্ধে ওয়ার্ডে টেকাই মুশকিল।

পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা এমরান আলী (৫৮) জানালেন, গত শনিবার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেদিনের পর থেকে হাসপাতালে বিদ্যুৎ আসেনি। ফলে চরম গরমের কারণে তিনি আরও বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন বলেও জানান।

উপজেলার রাজাবাড়িহাট এলাকা থেকে যাওয়া ডায়রিয়ার রোগি মোজাম্মেল হক (৪০) জানান, বিদ্যুতের অভাবে হাসপাতালের লাইট জ্বলেনি পাঁচ দিন ধরে। কিন্তু এর পরেও হাসপাতালের পক্ষ থেকে রাতে কোনো আলোর ব্যবস্থা করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি বাড়ি থেকে হারিকেন আনিয়ে রাত পার করছেন।

মহিলা ওয়ার্ডে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত মেয়ে জয়ন্তী রানীকে (৯) নিয়ে শুয়ে ছিলেন মা কাজল লতা (৪৫)। তিনি জানালেন, একেই তো হাসপাতালে অন্ধকার, তাঁর ওপরে যোগ হয়েছে মশার উপদ্রব। বৈদ্যুতিক পাখা না ঘোরাই মশার উপদ্রব খুব বেশি বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

ওদিকে হাসপাতালের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সুলতানা রাজিয়া জানিয়েছেন, হাসপাতালটিতে প্রতি রবি এবং বুধবার নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্বকরণ অস্ত্রপচার করা হয়। কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে চলতি সপ্তাহে একজন রোগিরও অস্ত্রপচার করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তৌহিদ জামান বললেন, হাসপাতালে বিদ্যুৎ নেই, জেনারেটর নেই। আইপিএসের ব্যাটারিও নষ্ট। এতে তাঁদের চিকিৎসা কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. হোসেন আলী বলেন, ‘প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র আশ্রয়স্থল এই হাসপাতালে পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে কোনো রোগি ভর্তিও থাকতে চাইছেন না। যাঁরা থাকছেন, তাঁদের জোর করে রাখা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, বিদ্যুতের অভাবে হাসপাতালে মজুদ রাখা পোলিও, পেন্টা ও যক্ষা রোগের বিসিজি ভ্যাকসিন গত সোমবার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কারণ এসব ভ্যাকসিন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফ্রিজিং করে না রাখতে পারলে নষ্ট হয়ে যায়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য গোদাগাড়ী বিদ্যুৎ অফিসে বারবার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছেনা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) গোদাগাড়ীর বিক্রয় ও বিপনণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী আইনাল হক বলেন, শনিবারের ঝড়ের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরবরাহ সংযোগের এলাকায় চারটি বৈদ্যুতিক খুটি ভেঙে পড়ে। সেগুলো সরিয়ে নতুন করে বৈদ্যুতিক খুটি স্থাপনের জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। তবে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন।

সুত্রঃ সানশাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published.