‘পা টিপে নেয়ার নামে রাতে ঘরে নিয়ে যেত হুজুর’

রাজশাহী

‘হুজুর প্রায় রাতেই হোস্টেলে আসতেন। পা টিপে নেয়ার নামে সব ছাত্রের সামনে থেকেই আমাকে তার ঘরে নিয়ে যেতেন। তারপর আমার সঙ্গে এসব করতেন। বাধা দিলে ক্লাশে আমাকে মারতেন। তাই মাদ্রাসায় পড়বো না বলে অনেক দিন বাড়ি পালিয়ে গেছি। কিন্তু বাড়িতে এসব কথা বলতে পারিনি বলে হেফজ করতে পারি না ভেবে আব্বাও আমাকে মারতেন। তারপর আবার মাদ্রাসায় রেখে আসতেন। তারপর আবার হুজুর আমাকে নিয়ে যেতেন।’
রাজশাহীতে এভাবেই অধ্যৰর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে এক মাদ্রাসা ছাত্র (১৩)। ঘটনাটি মহানগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকার জামিয়া রহমানীয়া মাদ্রাসার। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ডিউটি অফিসারের কৰে কথা হয় ওই শিৰার্থীর সঙ্গে। সে জানায়, তার বাড়ি নগরীর ওয়াবদা কলাবাগান এলাকায়। জামিয়া রহমানীয়া মাদ্রাসায় সে হেফজ বিভাগের আবাসিক শিৰার্থী হিসেবে পড়াশোনা করত। এই মাদ্রাসার অধ্যৰ আবদুল জব্বার জিহাদী। হাত-পা টিপে দেয়ার নাম করে অধ্যৰ প্রায়ই তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতেন। কখনও তার ঘরে, আবার কখনও আবাসিক ভবনের নিচতলায় মসজিদের ভেতর দিনের পর দিন তার ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চলতো। সবশেষ গত ২২ রোজার রাতে তারাবীহ শেষে তাকে মসজিদে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেন অধ্যৰ।
থানায় আসা ওই শিৰার্থীর বাবা জানান, মাদ্রাসায় পড়বে না বলে প্রায়ই তার ছেলে সেখান থেকে পালিয়ে আসত। তিনি ভাবতেন, তার ছেলে হয়তো কুরআন মুখস্ত করতে না পেরে পালিয়ে আসছে। তাই জোর করে তাকে তিনি আবারো রেখে আসতেন। সবশেষ গত ঈদে বাড়ি এসে এবার সে কোনোভাবেই মাদ্রাসায় যাচ্ছিল না। পরে বাধ্য হয়ে তাদের সব কথা খুলে বলে। এরপরই তিনি থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। থানায় ৰোভে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই শিৰার্থীর মা। বলেন, ‘আমার ছেলের মতো কত ছাত্র নির্যাতিত হয় তার কোনো ঠিক নেই। এসবের প্রতিবাদ করতে হবে। অধ্যৰর শাস্তি হতে হবে। তা না হলে মাদ্রাসা আর মাদ্রাসার শিৰকদের সম্পর্কে মানুষের বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হবে। আমি এর বিচার চাই’।
এবিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান জানান, অধ্যৰ আবদুল জব্বার জিহাদীর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। তার বাবার নাম ফকির মাহমুদ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভিকটিমকে সঙ্গে এনে তার বাবা-মা ওই অধ্যৰর নামে থানায় মামলা করেন। এরপরই রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বুধবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বশির আহম্মেদ জানান, নির্যাতনের শিকার ওই শিৰার্থী বৃহস্পতিবার আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত  মাদ্রসার অধ্যৰ জিহাদীর রিমান্ডেরও আবেদন করা হবে।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ

1 thought on “‘পা টিপে নেয়ার নামে রাতে ঘরে নিয়ে যেত হুজুর’

Comments are closed.