পুঠিয়ায় ইটভাটার ধোঁয়ায় আম নষ্ট হয়ে চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন

পুঠিয়া রাজশাহী

আমের রাজধানী বলে খ্যাত রাজশাহীর এলাকায় ইটভাটার নির্গত ধোয়ায় আমের গুটি পুরে কালো দাগ হয়ে ফেঁটে এবং আমের গুটিগুলো ছোট হয়ে যাওয়ায় আম চাষ করা ধ্বংসের মুখে পড়ছে। আম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আম চাষী ও আম ব্যবসায়ীর লোকশানের মুখে পড়াই ইট ভাটা এলাকায় আম চাষীরা বাগান করা বন্ধ আর যারা করেছেন তার বর্তমানে দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে আম ব্যবসায়ীর ইটভাটা এলাকায় আমের বাগান কিনে লোকসানের মুখে পড়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে ব্যবসায়ীরা। ইটভাটার ধোয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার পুঠিয়া উপজেলার গোপাল হাটি গ্রামের আম ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক জানায়, উপজেলা সদরে পৌর এলাকার হাফ কিলোমিটার পূর্বে একটি ইটভাটা রয়েছে। তার পার্শ্বে আলী হোসেনের ৪৪ টি আমের গাছের বাগান ৩ বছর পূর্বে ৪ বছরের চুক্তিতে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে বাগান ক্রয় করি।

প্রতি চালানে বাগানে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকার ঔষধ দিতে হয়। সে সময় থেকে ইটভাটার নির্গত ধোয়ায় আমের গুটি পুরে কালো দাগ হয়ে ফেঁটে এবং আমের গুটিগুলো ছোট হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছর মোটা অংকের লোকশান দিতে হচ্ছে। আম নষ্ট হওয়ার ব্যপারে ঔষধ প্রয়োগ করেও কোন লাভ হয় না। আম নষ্ট হওয়ার ব্যপারে উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে জানানোর পড়েও কোন সমধান আনতে না পাড়াই লোকশান গুনতে হচ্ছে।

উপজেলার বাগান মালিক ও গ্রামবাসীরা জানায়, চলতি বছরের আমের মৌসুমের পূর্বে গাছে মুকুল আসলেও অধিকাংশ মুকুল ঝড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইটভাটার আশেপাশের গাছগুলোতে এ অবস্থা দেখা গেলেও কোন ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না। গত বছর ক্ষতি কম হলেও এবার সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হচ্ছে। ইটভাটা থেকে নির্গত ঝাঝালো গ্যাসে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে।

জানাগেছে, ইটভাটাগুলো আবাসিক এবং কৃষি জমি অধ্যুষিত। এই ভাটা গুলো থেকে গরম ধূয়ার সঙ্গে ক্ষুদ্রকণার ধূলাও নির্গত হচ্ছে। এগুলো ঠান্ডা হতেও বেশ সময়ের প্রয়োজন হয়। এগুলো উপর থেকে পুনরায় নিচের দিকে ধাপিত হয়ে থাকে। অনেক সময় ভাটা থেকে নির্গত তীব্র ঝাঁঝালো গ্যাসে পুরো এলাকা দূষিত হয়ে পড়ে। এ সময় মানুষেরও স্বাশ প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এলাকার সার্বিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মুনজুর রহমান জানায়, ইটভাটার ধোওয়া ও বাতাসের করণে আমের নিচের দিকে নষ্ট হয়ে যায়। এটা শুধু ভাটা এলাকায় সমস্যটা হয়। ভাটাা এলাকায় আমে কোন প্রকার ঔষুধে এই রোগ প্রতিকার সম্ভব নয়। সেটা একমাত্র উপায় ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাহলেই এই রোগ থেকে প্রতিকার পাওয়া যাবে।

এ ব্যাপারে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দোকার ফরহাদ আহমদ জানায়, আম নষ্ট হওয়ার ব্যপারে আমাদের কাছে কেউ আসেনি। আর ইটভাটার কারণে যে আমগুলো নষ্ট হচ্ছে সেটা পরীক্ষা নিরিক্ষা করার পর সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।