পুঠিয়ায় এক সংখ্যালঘুর ধান কেটে নিয়েছে প্রভাবশালীরা

অপরাধ রাজশাহী

লিখেছেন তামান্না ইয়াসমিন॥ রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিওপাড়া ইউনিয়ের মেসপাড়া গ্রামের এক হিন্দু পরিবার স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভূমদস্যুদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ওই প্রভাবশালীরা হিন্দু পরিবারটির এক বিঘা জমির কাঁচা ধান কেটে নিয়ে গেছে। এর প্রতিকার চেয়ে দোষীদের শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

লিখিত বক্তব্যে মেসপাড়ার বাসিন্দা সুরেশ চন্দ্র জানান, ২০১৩ সালে তার ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র সাগর চন্দ্র প্রতিবেশি নবব শ্রেণির ছাত্রী পলি রানির সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সালিশি বৈঠকে তাদের দু’জনের বিয়ে দেয়া হয়। যদিও দু’জনের বয়স ছিলো ১৮ এর নিচে। বিয়ের সময় গ্রাম্য মোড়লরা সিদ্ধান্ত দেন যে, পলির ভবিষ্যতের নিশ্চয়তাস্বরূপ তাকে এক বিঘা জমি দান করতে হবে। কথামতো ২০১৩ সালের ৩০ জুন তিনি জমি রেজিস্ট্রি করে দেন।

কিন্তু জমি রেজিস্ট্রির পর দিনই পলি বাপের বাড়ি চলে যায়। পরে সুরেশ চন্দ্র জানতে পারেন, পলিকে তিনি জমি দান করলেও পলি স্থানীয় প্রভাবশালী মনসুরের যোগসাজসে কবলা দলিল করে নিয়েছেন। সুরেশ বিষয়টি একদম বুঝতে পারেন নি জমি দেয়ার সময়। যেহেতু পলি তার ছেলের সংসার করতে রাজি হাননি সেহেতু জমি ফেরত নেয়ার জন্য ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর রাজশাহী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন সুরেশ।

বিচারক বিষয়টি তদন্তের ভার দেন পুঠিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে। মোজাম্মেল হক তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, সুরেশ চন্দ্র পলি রানির সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য রেজিস্ট্রি করে দেন। অর্থাৎ তিনি পলির কাছে জমি বিক্রি করেন নি। মামলাটি এখনো আদালতে বিচারাধীন। অথচ এর মধ্যে পলি জমিটি অন্য এক জনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। যারা কয়েকদিন আগে সেই জমির ওপর সুরেশের বপনরকৃত ধান কেটে নিয়ে গেছে। বিভিন্নভাবে সুরেশকে হুমকি প্রদান করছে তারা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সুরেশ চন্দ্র প্রধানমন্ত্রী, রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি, এসপির নিকট নিরাপত্তা কামনা করেন। এ ব্যাপারে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, তারা বিষয়টি শুনেছেন। তাদের কাছেও অভিযোগ আছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.