পুঠিয়ায় চুল কেটে ট্রাকে বেঁধে শিশু নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২

পুঠিয়া রাজশাহী

রাজশাহীর পুঠিয়ায় বাসের সিডি প্লেয়ার চুরির অভিযোগে শিশুকে ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যাদের রিমান্ডে চাই পুলিশ।

বুধবার দুপুরে দুইজনকে রাজশাহীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানান পুঠিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাবিবুল হাসান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, রাজশাহী-বগুড়া রুটোর বিপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের ড্রাইভার আক্কেল আলী ও পুঠিয়ার খান ফিলিং স্টেশনের কর্মচারি নজরুল ইসলাম। তাদের বাড়ি উপজেলার বারোইয়াপাড়া গ্রামে।

পুলিশ পরিদর্শক রাকিবুল জানান, মঙ্গলবার দুপুরের পর নির্যাতনের শিকার শিশু নাজমুল হকের (১২) বাবা হাফিজুর রহমান পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় আক্কেল ও নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে নজরুলকে ও বুধবার ভোরে আক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।
পুলিশ পরিদর্শক রাকিবুল হাসান বলেন, নির্যাতনের শিকার নাজমুলের জবানবন্দি গ্রহনের জন্য বুধবার বিকেলে রাজশাহীর শিশু আদালতে হাজির করা হয়। বিকেল ৫টার পর তার জবানবন্দি রেডর্ক করার কথা রয়েছে বলে জানান রাকিবুল।
এদিকে, উপজেলার বারোইপাড়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে নাজমুল হকের নির্যাতনের ছবি বুধবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এছাড়াও ছবিটি ফেইসবুকেও ছড়িয়ে পড়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, মাটিতে বসা এক শিশুর চুল কেটে দিচ্ছে একজন। মুখ নামিয়ে রাখা ছেলেটির ডান হাতটি সাদা রঙ এর মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে ধরে রেখেছে কেউ একজন।
দড়িটির গোড়াতে আরেকটি শার্ট বা জ্যাকেট জাতীয় কিছু পাকিয়ে বাঁধা হয়েছে, যা দিয়ে ভিন্ন দিকে ঐ হাতটিকেই টেনে ধরে মোবাইল ফোনে দৃশ্যটি ধারণ করছেন একজন।

পরনে সাদা রঙের জাম্পার, ছাইরঙের ফুলশার্ট আর খয়েরী ফুলপ্যান্ট। পায়ে একজোড়া চপ্পল। ঘটনামঞ্চ ঘিরে কয়েক জোড়া পা দেখা যাচ্ছে। কারো পরনে প্রিন্টেড ক্যাজুয়াল ট্রাউজার, কারো লুঙ্গি।

ছেলেটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজশাহী-বগুড়া রুটের বিপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে সে সিডি প্লেয়ার চুরি করেছে। ওই অভিযোগে নাজমুল হকে মঙ্গলবার ভোররাতের দিকে বিপি পরিবহনের চালক, সুপারভাইজার ও অন্যান্য কর্মীরা মিলে একটি ট্রাকের সামনের বাম্পারের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে। শেষে তার মাথার চুল কেটে নিয়ে, মুখে পোড়া মবিল মাখিয়ে দেয়া হয়। সকাল ১০টার দিকে এলাকার মানুষজন ঘটনা দেখে পুলিশে খবর দেয়। এরপর ছেলেটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।

নাজমুলের বাবা হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, তার ছেলে নির্দোষ। ওই এলাকার মোটর গ্যারেজ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সবাই জানে নাজমুল ভদ্র ও বিনয়ী ছেলে। তাকে মিথ্যা অভিযোগে টার্গেট করা হয়েছে।

হফিজুর রহমান বলেন, বছরখানেক হলো পুঠিয়া পৌরসভা এলাকার এক প্রান্তে খান ফিলিং স্টেশনের পাশে একটি ছোট দোকান দিয়েছেন তারা। সেখানকার মোটর সাইকেলের ছোটখাটো কাজ, টুকিটাকি যন্ত্রপাতি পরিষ্কার ও মেরামতের কাজ করে তার ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় নাজমুল চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়োশোনা করে আর এগুতে পারেনি। বছর খানেক রাজশাহী-বগুড়া রুটের বিপি পরিবহনের একটি বাসে হেল্পারের কাজও করেছে নাজমুল বলে জানান তার বাবা।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন