পুষ্টির ওয়েবসাইট গড়ে পুরস্কার জিতলেন চার তরুণী

তথ্য প্রযুক্তি স্বাস্থ্য বার্তা

একদিন ক্যানটিনে চার বান্ধবীর আড্ডা। হঠাৎ আড্ডার মোড় ঘোরে খাবারদাবারে। এই কথা, সেই কথা শেষে একটি প্রশ্নে সবাই নিরুত্তর—কোন খাবার স্বাস্থ্যসম্মত কিংবা কোনটার কী পুষ্টিগুণ। তাই তো! আমাদের এই অবস্থা হলে গ্রামের লোকজন তো আরও পিছিয়ে থাকবে! তাহলে উপায়? ভেবেচিন্তে বের করলেন গড়ে তুলবেন পুষ্টিবিষয়ক ওয়েবসাইট, যেখানে পুষ্টিবিষয়ক সব তথ্য থাকবে। সাত দিনের মাথায় বানিয়ে ফেললেন ওয়েবসাইট—‘পিউরিটি ডট কেকডিজিট ডট কম’।

এই চারজন হলেন নিসর্গ নিগার, আলা নূর, নাসরিন সিদ্দিকা ও অনন্যা ব্যানার্জি। সবাই পড়ছেন ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইডিইউ) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষে। তাঁদের এই কাজের স্বীকৃতিও মিলেছে। পুষ্টির তথ্য সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এই ধারণা দিয়ে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ আয়োজিত এবারের নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডে জিতে নিয়েছেন রানারআপের পুরস্কার। এই প্রতিযোগিতায় সারা দেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়। গত ২৯ মার্চ ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ক্রেস্ট, সনদ ও এক লাখ টাকার চেক। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছাড়াও বিদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার পেয়ে ভীষণ আনন্দিত চারজনই। দলনেতা নিসর্গ নিগার বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই অবস্থায় আমাদের দেশের পুষ্টির চিত্র তেমনটা আলোকিত নয়। সবাই মিলে ভাবলাম একটা ওয়েবসাইট আর অ্যাপ তৈরি করে পুষ্টি নিয়ে সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াব। তবে ওয়েবসাইট তৈরি হলেও অ্যাপের কাজ এখনো চলছে।’

কী ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে ওয়েবসাইটে? প্রশ্নের জবাবে সদস্য আলা নূর বলেন, ‘পুষ্টির সবকিছু আছে এতে। বিপদের সময় অভিজ্ঞ ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আছে মোবাইল নম্বর। কোন খাবারের কী গুণাগুণ, বাচ্চাদের খাবার নিয়ে ভাবনা, প্রশ্ন লিখে রোগের উত্তর পাওয়া, ঘরে বসে রোগনির্ণয়ের পদ্ধতি ইত্যাদি।’ এটি বড় পরিসরে বাস্তবায়িত হলে পুষ্টিহীনতার চিত্র অনেকখানি দূর হবে বলে জানান দলের অপর দুই সদস্য নাসরিন ও অনন্যা।

তাঁদের এমন সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইডিইউর প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, এ ধরনের অর্জন ভবিষ্যতে চার শিক্ষার্থীকে দেশের জন্য আরও ভালো কিছু করার প্রেরণা জোগাবে।

খবরঃ প্রথম-আলো