পেঁপের দাম ভাল হলেও কৃষকের লোকসান

রাজশাহী

কাল বৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে বোরো ধান ও আমসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে এসব ফসলের পাশাপাশি পেঁপে বাগানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাষিরা। বাজারে পেঁপের দাম ভাল হলেও চাষির কোন কাজে আসছে না।

তবে চাষিরা এসব ভেঙ্গে পড়া ঁেপপে গাছ রেটন বা ক্রপ কাটিং করে ডালপালা জন্মনোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি বছর এক হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে।
নগরীর পাশে হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়িয়াপাড়া গ্রামের কয়েকটি ক্ষেতে সরোজমিনে দেখা যায়, পেঁপে গাছ প্রায় চারভাগের তিনভাগই ঝড়ে ভেঙ্গে পড়েছে। জমির মালিক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার জমি লীজ নিয়ে প্রতিবেশী শেখ মজিবর রহমান পেঁপের চাষ করেছে। কালবৈশাখী ঝড়ে তিন বিঘা জমিতে ১২শ’ গাছের মধ্যে মাত্র ৩শ” গাছ অক্ষত অবস্থায় আছে। গাছগুলো এ বছরই ফল দেয়া শুরু করে। চাষি মজিবর রহমানের বর্তমান পেঁপের বাজার অনুযায়ী প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ওই গ্রামের বেলাল উদ্দিন, মুকুল হোসেন, রবিউল ইসলামসহ অনেকেই এবারে কালবৈশাখী ঝড়ে পেঁপে গাছ ভেঙ্গে পড়ায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। তারা এখন ক্রপ কাটিং বা রেটন পদ্ধতিতে গাছকে মাঝামাঝি কেটে ওপরে পলিথিন বেধে রেখেছে। মুকুল হোসেন বলেন, পেঁপে গাছ পানিতে পচে যায়। তাই কান্ডে পানি ঢুকে নষ্ট না হয় সে জন্য পলিথিন দিয়ে গাছের কাটামাথা ঢেকে দেয়া হয়। নতুন ডাল বেরুলে একটি রাখা হয়। তবে সাবেক গাছের মত ভাল হয় না।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে জমি থেকে পেঁপে ১১০ কেজি বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ২শ’ টাকায়। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা প্রতিকেজি।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, এক হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৪শ’ হেক্টর বেশী। কৃষি অফিস জানায়, মাত্র ১১৪ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশী হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, পেঁপে আবাদের কয়েক হেক্টর জমিসহ আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তারপরেই এখন বিভিন্ন পদ্ধতিতে গাছ বাঁচাচ্ছেন। এতে খুব একটা লোকসান হবে না। আর বাজারে পেঁপের দাম ভাল। তাই লোকসান হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন