প্রচারণার শেষ দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চার পৌরসভার শেষ মূহুর্তের চিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী বিভাগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৪টি পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২০ জন প্রার্থী। বিধি মোতাবেক তারা পূর্নদ্যমে
প্রচার প্রচারনা করছেন। ৪ পৌরসভার ৪২টি সাধারন ও ১৪টি সংরক্ষিত (মহিলা) কাউন্সিলর পদেও ২৬১ জন (সাধারন ২০১ ও সংরক্ষিত ৬০)
প্রার্থী তাদের প্রচারনা চালাচ্ছেন। অঞ্চলগত ও
ইতিহাস মোতাবেক চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপি ও
পরে জামায়াত সমর্থিত এবং আওয়ামী বিরোধী
এলাকা। তবে দিন বদলেছে।
কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাব, তথ্য ও যোগাযোগ
প্রযুক্তির উন্নয়ন, শহরায়ন ও শিক্ষার হার বৃদ্ধি
এবং নতুন প্রজন্মের ভোটার বেড়ে যাওয়ায়
চিরাচরিত ভোটের চিত্র পাল্টাচ্ছে প্রতিটি
নির্বাচনে। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে
জেলার তিনটি সংসদীয় আসনই লাভ করে
আ’লীগ। ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে সেই অবস্থা
পুরোপুরি ধরে রাখতে না পারলেও বেড়েছে
আ’লীগের ভোট যা পরের সকল স্থানীয় পরিষদ
যথা উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন
নির্বাচন ও উপ-নির্বাচনে কিছুটা প্রতিফলিত
হয়েছে। প্রধান এই তিন দল ছাড়া অনান্য কোন
দলের শক্তিশালী কোন অবস্থান নেই জেলায়।
সরকারী দলের প্রার্থীরা জিতলে এলাকার
উন্নয়নে কাজ হবে বলেই মনে করেন সচেতন
ভোটাররা তবে আবার দলীয় ভোটাররাই
সংখ্যায় বেশী। এদিকে বিরোধী দলের অনেক
প্রার্থী ও কর্মীরা পালিয়ে আছেন এবং
মামলায় জর্জরিত। এ জেলায় এখনও আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি যথেষ্ট ভাল এবং তেমন কোন আচরণ
বিধি ভঙ্গের ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন কমিশন
যথেষ্ট শক্ত অবস্থান নিলেও মনস্তাত্ত্বিকভাবে
প্রচারনায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা সুবিধা
জনক অবস্থানে রয়েছেন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত
নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসে সাধারন
ভোটারদের সাথে কথা বলে জেলার চার পৌর
মেয়র ভোটের সম্ভাব্য ফলাফলের চিত্র তুলে ধরা
হল। সম্ভাব্য ৫৬ কাউন্সিলর হিসেবে বেশীর
ভাগই বিরোধী দলগুলির প্রার্থীদেরই জয়ের
সম্ভাবনা বেশী বলেই মনে হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা:
জেলার বৃহত্তম ও শতবর্ষের প্রাচীন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার রির্টানিং
কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নজরুল
ইসলাম জানান, এই পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা
পুরুষ ৬১২৭৭ জন, নারী ৬৩৯৯২ জন এবং মোট ১২৫২৬৯
জন। ওয়ার্ড সংখ্যা ১৫টি এর মধ্যে সংরক্ষিত
ওয়ার্ড ৫টি এবং ভোট কেন্দ্র ৫৭টি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে
আ.লীগের সামিউল হক লিটন (নৌকা), বিএনপির
আতাউর রহমান (ধানের শীষ), বিদ্রোহী
বিএনপি ও বর্তমান মেয়র আব্দুল মতিন
(নারিকেল গাছ স্বতস্ত্র), জাসদের
মনিরুজ্জামান মনির (মশাল), জামায়াতের
জেলা আমির নজরুল ইসলাম (জগ) ও জাতীয়
পার্টির শাহজাহান আলী (লাঙ্গল) প্রতীক
নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এখানে নৌকা ও
জামায়াতের জগ প্রতীকে মধ্যেই চুড়ান্ত লড়াই
হবে বলেই মনে হচ্ছে।
যদিও বিএনপির শক্তিশালী ভোট ব্যাংক
এখানে এখনও অটুট আছে বলে মনে করছেন
অনেকেই। সে ক্ষেত্রে লড়াই ত্রিমুখী হতে
পারে। আ.লীগ নেতা তরুন ব্যবসায়ী সামিউল হক
লিটন বেশ আগে থেকেই প্রচুর অর্থ ব্যয় করে
আসছেন এই নির্বাচনের জন্য। তার সুবিধে দলে
কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই বা তেমন কোন
গ্রুপিং নেই। এখানে বিএনপির ভোট সর্বার্ধিক
হলেও তাদের প্রার্থী রয়েছেন বেকায়দায়।
তিনি দুবারের সাবেক মেয়র ও দূনির্তীর দায়ে
বহিস্কৃত জামায়াত নেতা। দলে বিদ্রোহী
প্রার্থী রয়েছে ও দলীয় কোন্দল চরমে।
জামায়াতের কোন অর্ন্ত:দ্বন্দ্ব নেই তবে
নেতাকর্মীরা মামলায় জর্জরিত। তাদের দলীয়
ইমেজও নাশকতার কারনে যথেস্ট হুমকির মুখে।
প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে। তাদের
সুবিধে এই পৌরসভায় ৪ হাজার নারী ভোটার
বেশী।
শিবগঞ্জ পৌরসভা:
শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আ.লীগের ময়েন
খান (নৌকা), বিএনপির সফিকুল ইসলাম (ধানের
শীষ), আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কারীবুল হক
রাজিন (নারিকেল গাছ) ও জামায়াতের নেতা
সাবেক মেয়র জাফর আলী (জগ) প্রতীকে
নির্বাচন করছেন বলে জানিয়েছেন জেলা
নির্বাচন কর্মকর্তা ও শিবগঞ্জের রির্টার্নিং
কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এই পৌরসভায় ভোটার
সংখ্যা পুরুষ ১৪৫৯৯ জন, নারী ১৪০৪৮ জন এবং মোট
২৮৬৪৭ জন। ওয়ার্ড সংখ্যা ৯টি ও সংরক্ষিত
ওয়ার্ড ৩টি। ভোট কেন্দ্র ১১টি।
রাজিন গত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর নিকট
পরাজিত হন। এখানে বিএনপির ভোট সবচাইতে
বেশী । আর জামায়াতের প্রার্থী সাবেক মেয়র
জাফর আলীও তেমন সুবিধে করতে পারছেন না।
বিগত দুই বার এখানে বিএনপি প্রার্থীরাই মেয়র
হয়েছেন। এই পৌরসভায় প্রচারণা যেন
ক্ষমতাসীন দলের দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এখানে আ.লীগের প্রার্থী ময়েন খান, আ.লীগের
বিদ্রোহী প্রার্থী রাজিন আর বিএনপি
প্রার্থী সফিকের মধ্যে ত্রীমূখী লড়াই হবে
বলেই মনে করছেন ভোটারেরা।
রহনপুর পৌরসভা:
জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার প্রথম শ্রেণীর
রহনপুর পৌরসভায় ৩ প্রার্থী আ.লীগের বর্তমান
মেয়র ও স্থানীয় সংসদ সদস্যর ভাই গোলাম
রাব্বানী বিশ্বাস (নৌকা), বিএনপির তারেক
আহম্মেদ (ধানের শীষ) ও জামায়াত নেতা
মিজানুর রহমান (নারিকেল গাছ) বেশ কয়দিন
আগে থেকেই মাঠে বলে জানিয়েছেন
রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনও মামুনুর রশিদ।
এখানে ভোটার সংখ্যা পুরুষ ১১৪৫৮ জন, নারী
১১৮১১ জন এবং মোট ২৩২৬৯ জন। ওয়ার্ড সংখ্য ৯টি
ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৩টি, ভোট কেন্দ্র ১১টি এবং
অস্থায়ী ভোট কেন্দ্র ১টি। এখানে স্পষ্টতই
নৌকার সাথে ধানের শীষের দ্বিমুখী লড়াই
হবে।
নাচোল পৌরসভা:
নাচোল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জনের
মধ্যে আ.লীগের আব্দুর রশিদ খান ঝালু (নৌকা),
বিএনপির কামরুজ্জামান (ধানের শীষ), জাপার
তৌহিদুল ইসলাম শাহিন (লাঙ্গল), বর্তমান
মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মালেক চৌধুরী
মিঠু (মোবাইল ফোন), জামায়াত নেতা ডা:
রফিকুল ইসলাম (জগ), স্বতন্ত্র প্রার্থী আসলাম
হোসেন (নারিকেল গাছ) ও স্বতন্ত্র আমানুল্লাহ
আল মাসুদ (ইঞ্জিন) সকলেই প্রতিদ্বন্দ্বীতায়
বলে জানিয়েছেন রির্টানিং কর্মকর্তা ইউএনও
রাশেদ ওয়াশিফ।
এখানে ভোটার সংখ্যা পুরুষ ৫৯৮৬ জন, নারী ৬১৫৯
জন এবং মোট ১২১৪৫ জন। ওয়ার্ড সংখ্যা ৯টি ও
সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৩টি, ভোট কেন্দ্র ১০টি এবং
অস্থায়ী ভোট কেন্দ্র ২টি। এখানে ধানের
শীষের কামরুজ্জামানের সাথে নৌকার আব্দুর
রশিদ খান ঝালরু প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে। তবে
স্বতন্ত্র আমানুল্লাহ আল মাসুদ (ইঞ্জিন) ভাল
করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে লড়াই হবে ত্রিমুখী।