প্রতিদিন খুন হচ্ছে ১৫ জন!

জাতীয়

সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন করার জন্য ব্যবহার করছে। আর সে কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন মানুষ খুন হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ডা. শফিকুর বলেন, ‘সরকারের একগুঁয়েমির কারণে দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক সঙ্কট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আর সে কারণেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটছে না। সেদিকে সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত।’

তিনি বলেন, ‘সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর দেশের জনগণের কোনো আস্থা এবং বিশ্বাস নেই। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের শঙ্কা কাটছে না। সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য যে সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রয়োজন তা এখনো দেখা যাচ্ছে না। মিথ্যা মামলা, হামলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জুলুম-নির্যাতনের ভয়ে ২০ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থীরা জনগণের সামনে হাজির হতে পারছে না এবং খোলা মনে মুক্ত পরিবেশে নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা না হলে সে নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য নির্বাচনের ১৫ দিন পূর্বে অবশ্যই তিনটি সিটি করপোরেশনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হয়রানী বন্ধ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গণগ্রেপ্তার অভিযান অবশ্যই বন্ধ রাখা দরকার।’

ডা. শফিকুর বিবৃতিতে বলেন, ‘সারাদেশে সরকারের নির্যাতন অব্যাহতভাবে বেড়েই চলেছে। আজও সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের প্রায় দুইশ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এভাবে জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে কখনো ক্ষমতায় থাকা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.