বগুড়ায় ছোট ভাই হত্যার দায় স্বীকার করলো বড়ভাই

বগুড়া রাজশাহী বিভাগ

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সোহাগ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হলো। নিহতের বড় ভাই সৌরভকে (১৩) গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশের কাছে ছোট ভাইকে হত্যার দায় স্বীকার করে।

আজ সোমবার সৌরভের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। সৌরভ পুলিশকে জানায়, মা-বাবার ভালোবাসায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ছোট ভাইকে খুন করেছে সে।

জানা যায়, গত ২৫ আগষ্ট বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের মহিদুল ইসলামের ছেলে এবং রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সোহাগকে হত্যার পর লাশ একটি পাটক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। পরদিন সকালে সোহাগের লাশ উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ ঘটনা তদন্তের পর গত রবিবার নিহতের বড় ভাই সৌরভ (১৩) কে গ্রেফতার করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে সে ছোট ভাইকে হত্যার দায় স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

সোমবার বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক ফেরদৌস ওয়াহিদের নিকট ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সৌরভ। সৌরভ পুলিশকে জানায়, ছোট ভাই সোহাগ তার চেয়ে মেধাবী ছিল। ছাত্র হিসেবে খুব ভালো ছিল। একারণে বাবা-মা সোহাগকে বেশি ভালোবাসতো। বাবা-মার এই অতিমাত্রার ভালোবাসা সৌরভকে কষ্ট দিতো। এজন্য সে ছোট ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন বিকেলে খেলার কথা বলে ছোট ভাই সোহাগকে ডেকে নিয়ে চরের মধ্যে যায়। সেখানে গলা টিপে সোহাগকে হত্যার পর পটল ক্ষেতে টানানো এক টুকরো বাঁশের বাতা গলায় ঢুকিয়ে দেয়। এরপর প্যান্ট খূলে মুখে গুঁজে দিয়ে পাশের একটি পাটক্ষেতের মধ্যে লাশ লুকিয়ে রাখে ।