বগুড়ায় লিচু বাগানে জালের ফাঁদে মরছে পাখি

বগুড়া রাজশাহী বিভাগ

মধুমাস জ্যৈষ্ঠের আধিপত্য চলছে প্রকৃতিতে। বাহারি ফলের ঘ্রাণে বুঁদ চারপাশ। বুঁদ পাখিরাও। তাদেরও সুদিন এখন। পাখা ভাসালেই পাকা ফল। আমের পাশাপাশি সদ্য রংধরা লিচুতে নজর বাগান মালিকের। পাখিদেরও তাই। আর এটাই হয়ে গেছে তাদের কাল।

অধিক ফল পেতে লাভের আশায় পাখ-পাখালির হাত থেকে রক্ষ‍া পেতে বাগান মালিকেরা লিচু গাছে পেতেছেন জাল। আর সে জালে জড়িয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে বাদুড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি পাখি।

লিচুর টানে রাতে গাছে গাছে ঝুলে পড়ছে বাদুড়। চামচিকের উৎপাতটাও থামছে না। শালিক, বুলবুলি, কাঠঠোকরা, হাড়িচাচাসহ নানা প্রজাতির পাখির আনাগোনা তো লেগেই আছে।

বাগান মালিকরা লিচুসহ গাছের মাথার অংশটুকু ঘিরে দিয়েছেন জালে। এ কাজে লাইলন স‍ুতোর তৈরি জাল বা বিশেষ ধরনের নেট ব্যবহার করছেন তারা। এটা পাখির জন্য আবার মরণফাঁদ।

সেই জালে আটকা পড়ে মরছে বাদুড়-চামচিকে। বাদ যাচ্ছে না অন্য প্রজাতির পাখিও। এতে রক্ষা পাচ্ছে বাগান মালিকের স্বপ্নের লিচু। তবে মরছে পাখপাখালি। ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ-প্রতিবেশ।

বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে তোলা লিচু বাগান ঘুরে এ দৃশ্য নজরে পড়ে।
লিচু বিভিন্ন প্রজাতির পাখির পছন্দের খাবার। পাক ধরলেই বাগানে বাগানে শুরু হয় তাদের হানা। প্রকৃতির ফল খাওয়ার অধিকার তো তাদেরও আছে। তবে বাদুড়ের অত্যাচারটা অপেক্ষাকৃত বেশি। এদের কবল থেকে বাগানের লিচু রক্ষায় জাল দিয়ে গাছের মাথা মুড়িয়ে দেন মালিকরা। ফলে লিচু খেতে আসা বাদুড়ের পাশপাশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও আটকা পড়ছে জালে। স্বাভাবিক চলার পথেও অনেক সময় জালে আটকা পড়ে জীবন হারাচ্ছে উড়ন্ত বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বাধীন জীবন’র নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক নাছিম  জানান, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সমগ্র প্রাণী ও উদ্ভিদ বেঁচে থাকা অপরিহার্য। সেই ধারায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখপাখালি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পাখি রক্ষার জন্য নানাভাবে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে।

কিন্তু কতিপয় বাগান মালিক বিষয়টি না জেনে পাখি নিধন করছেন। এটা পরিবেশের জন্য মোটেও সুখকর নয়। অতএব জরুরি ভিত্তিতে পাখি নিধন বন্ধ করতে সবাই এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পরিবেশবাদী সংগঠনের এই নেতা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ জেলায় ছোট-বড় প্রায় পাঁচ শতাধিকের মতো লিচু বাগান রয়েছে। এসব বাগানে অন্তত অর্ধলাখ গাছ। চায়না-৩, বোম্বাই, মোজাফফর কুড়ি জাতের লিচু সিংহভাগ বাগানে চাষ করেছেন বাগান মালিকরা। জাতভেদে এসব লিচু গাছ থেকে ওঠানো হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের হর্টিকালচার সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর কৃষিবিদ আব্দুর রহিম জানান, জাতভেদে এপ্রিল মাস থেকে লিচু ওঠানো শুরু করেন বাগান মালিকরা। তবে চায়না-৩ জাতের লিচু মে মাসের ১৫-২০ তারিখ থেকে সাধারণ ওঠানো শুরু হয়। চলে মাসব্যাপী।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লিচুর জন্য পাখপাখালি বড় আপদ। লিচু তাদের প্রিয় খাবার। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি লিচু খাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর নষ্ট করে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য জাল দিয়ে গাছের মাথা ঘিরে দেন চাষিরা। এতে লিচু রক্ষা হলেও অনেক পাখি মারা পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে এখন থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার চিন্তা করার সময় এসেছে বলেও যোগ করেন তিনি।

খবরঃ বাংলানিউজ