বছর না ঘুরতেই রাজশাহীর সেই বাঁধে আবার ধস

রাজশাহী

রাজশাহী নগরীর টি-বাঁধের পশ্চিমের (পুলিশ লাইনের গেটের সামনে) সদ্য সংস্কার হওয়া শহর রক্ষা বাঁধের বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে ধস দেখা দিয়েছে। সেই ধস রোধে এলাকাটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড এরই মধ্যে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলতে শুরু করেছে।
গেল বছর প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যায়ে সংস্কার করা হয় এই বাঁধটি। তবে বছর না ঘুরতেই সেখানে ধস দেখা দেয়ায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জোড় দাবি জানিয়েছে তারা।

টি-বাঁধ সংলগ্ন ধস দেখা দেয়া পশ্চিমের বাঁধে গিয়ে দেখা যায়, নদী তীরে অর্থাত বাঁধের সূরক্ষায় বসান ব্লকগুলো দেবে গেছে। আকার কিছু ব্লক ধসে নিচে নদীর দিকে নেমে গেছে। ফলে ব্লকের ফাঁকে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দেখা যাচ্ছে ব্লকের নিচের মাটি। স্থানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে লাল পতাকা টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। আর বাঁধের ধস রোধে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে সেই ব্লকগুলোর ওপর।

সূত্র মতে, কয়েক বছর আগে নদীর পানি অস্বভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় টি-বাঁধ সহ আশপাশের বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। ভাঙ্গন প্রতিরোধে ২০১৭ সালে এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যায়ে বাঁধ এলাকার দেড়শ মিটার এলাকা সংস্কারের কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কাজটি শুরু হয় ২০১৫সালে। এসময় জনৈক ঠিকাদারকে দিয়ে ব্লক নির্মান করে বাঁধ এলাকাটি সংস্কার করা হয়। সেই সময় থেকেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কাজে ধীর গতি ও গাফিলতির অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। এছাড়া প্রতিবছর নদীতে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী এই জিও ব্যাগ ফেলর মূল কারণ নদীর স্রোতের গতিপথ তীরের বাইরের দিকে নিয়ে যাওয়া। বাঁধ রক্ষায় স্থায়ী সমাধান না করে এবারও এই নদীর তীরের বেশ কিছু এলাকায় একই ভাবে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছ।

পানিউন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য মতে, উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির তোড়ে এ মাসের প্রথম সমপ্তাহ থেকেই রাজশাহীর পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এসময় নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৭ দশমিক ৩৪ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। রাজশাহী পদ্মা নদীর পানির বিপদ সীমা চিহ্নিত করা রয়েছে ১৮ দশমিক ৫০। তবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে নদীর পানি আবার অস্বাভাবিক হারে কমতে থাকে। গত এক সপ্তাহে নদীর পানি প্রায় আট ফিট নেমে রবিবার থেকে প্রবাহিত হচ্ছে ১৫ দশমিক ২৪ মিটর দিয়ে।
সংশ্লিষ্টদের মতে বন্যার পর অস্বাভাবিক হারে নদীর পানি নেমে যাবার কারণে তীরে ভাঙ্গন দেখা দেয়। তবে বাঁধ রক্ষায় নিম্ন মানের কাজের কারণে বছর না ঘুরতেই এখানকার বাঁধটিতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এদিকে এত অল্প সময়ে নতুন বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় স্থানীয়রা বিষয়টি তদন্তের জোড় দাবি জানিয়েছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মকলেছুর রহমান বলেন, মাত্র ৫দিনে ৮ফিট পানি নেমে গেছে। যা অস্বাভাবিক। ফলে নদী তীরের এই অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে এ নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই। ভাঙ্গন প্রতিরোধে আমরা দ্রুতসময়ের মধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছি।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ ডেইলি সানশাইন