বনলতার অঙ্গহানি, রাজশাহীবাসীর ক্ষোভ

রাজশাহী

অঙ্গহানি ঘটছে রাজশাহী-ঢাকা রুটের একমাত্র বিরতিহীন ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেসের। চালুর আট মাসের মাথায় বনলতা থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ায় তৈরি অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল কোচগুলো।

আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে ভারতে তৈরি পুরনো কোচ নিয়ে চলাচল করবে বনলতা এক্সপ্রেস। পুরনো এসব কোচ আসবে ‘নীলসাগর’ এক্সপ্রেস থেকে। বনলতার কোচ নিয়ে এদিন থেকে চিলাহাটি থেকে চলাচল করবে নীলসাগর।

এ অদল-বদলের ফলে তৈরি হয়েছে ট্রেনের আসন বিন্যাস সংক্রান্ত জটিলতা। ফলে গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে বনলতার অগ্রিম টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে। কোচের অদল-বদলে ক্ষুদ্ধ রাজশাহীর মানুষ। এ ঘটনাকে এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা বলছেন বিশিষ্টজনরা।

তারা বলছেন, ইন্দোনেশিয়ান কোচগুলো সরিয়ে নেয়ায় গতি হারাবে বনলতা। ফলে নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না। এতে ভোগান্তি হবে যাত্রীদের।

গত ২৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘটা করেই উদ্বোধন করেন বনলতা এক্সপ্রেস। ৭৯১ আপ ও ৭৯২ ডাউন এই বনলতা এক্সপ্রেস রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিরতিহীন এবং রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে অফ সার্ভিস হিসেবে চলাচল করছে। আন্তঃনগর এ ট্রেনটি চলাচল করছিল একটি র্যাকেই।

শুক্রবার বাদে প্রতিদিন ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছেড়ে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায় বনলতা। এরপর বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ঢাকা ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছে। ৩৪৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রমে ট্রেনটির সময় লাগে ৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।

রাজশাহীর স্টেশন ম্যানেজার আবদুল করিম জানান, একটি র্যাকের মাধ্যমে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুইদিক থেকে চলাচল করে। এতে ট্রেনটি কোনো কারণে একদিকে বিলম্ব ঘটালে পরদিন সিডিউল ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া মাত্র দুটি র্যাকের সাহায্যে রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহীর মধ্যে চলাচল করে আন্তঃনগর সিল্কসিটি, পদ্মা ও ধূমকেতু নামের তিনটি ট্রেন।

তিনি বলেন, যে ট্রেনটি সিল্কসিটি হয়ে ঢাকায় যায় সেটি ফেরার সময় ধূমকেতু হয়ে রাজশাহীতে ফেরে। বনলতার জন্য বিপরীতমুখী দুটি পৃথক র্যাক (ট্রেনের সব কোচ মিলে একটি র্যাক) না থাকায় বিরতিহীন ট্রেনটির সিডিউল ঠিক রাখা যাচ্ছিল না। ফলে একটি অতিরিক্ত র্যাক যা ভারত থেকে আমদানিকৃত কোচের মাধ্যমে সংযোজন করা হচ্ছে।

আবদুল করিম জানান, নতুন র্যাকটি অপেক্ষমাণ থাকবে রাজশাহী স্টেশনে। ফলে রাজশাহীতে আন্তঃনগর মোট চারটি ট্রেনের জন্য চারটি র্যাক থাকছে। এতে কোনো একটি ট্রেনে রাজশাহীতে ফিরতে বিলম্ব করলে অপেক্ষমাণ র্যাকটি দিয়ে ফিরতি ট্রেনটি ঠিক সময়ে ছাড়তে হবে। আর এজন্যই বনলতায় ভারতীয় কোচ সংযোজন করা
হচ্ছে।

জানা গেছে, নীলসাগর ট্রেনে থাকা ভারতীয় কোচগুলো কয়েক বছরের পুরনো। ভারতীয় কোচে ১০৫টি করে আসন আছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার কোচগুলোতে রয়েছে ৯৫টি করে আসন। বনলতায় ভারতীয় কোচ সংযোজনের ফলে আসন সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও কোচগুলা পুরনো হওয়ায় সেগুলো ইন্দোনেশিয়ার কোচের মতো আরামদায়ক নয়। বনলতার বর্তমানে র্যাকে রয়েছে ১২টি কোচ। যার মধ্যে ৭টি শোভন কোচের আসন সংখ্যা ৬৬৪টি।

এছাড়া দুটি এসি কোচের আসন সংখ্যা ১৬০টি ও দুটি গার্ড ব্রেকের আসন সংখ্যা ১৮০টি। সবমিলিয়ে বনলতার আসন ছিল ৯৪৮টি। বনলতার টয়লেটটি বায়োটয়লেট যা বিমানে ব্যবহৃত হয়। তবে ভারতীয় কোচের বনলতায় আসন সংখ্যা কিছু কমবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা।

বনলতার নতুন কোচ সরিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আসাদুল হক বলেন, বনলতার সময়সূচি স্বাভাবিক রাখতেই এ পদক্ষেপ। এতে রেল সেবার কোনো হের ফের হবে না।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ জাগোনিউজ২৪