বাগমারার ৩৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযুগেও এমপিওভুক্ত হয়নি

বাগমারা রাজশাহী

রাজশাহীর বাগমারায় বেতনের আশায় প্রায় ছয়শত জন শিক্ষক বর্তমানে মানবেতর জীবর যাপন করছেন। গত ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে তারা বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। এ সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এখন প্রহর গুণছে কবে তাদের এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) ভুক্ত করা হবে।

মনোরম পরিবেশ ও সুদক্ষ শিক্ষক দিয়ে সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সরকারী অনুদান না পেয়ে শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগমারায় ১৬ টি মাদ্রাসা ১৮টি স্কুল ও ৫টি কলেজ এখনো এমপিও ভুক্ত হয়নি। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না। তারা বেতনের আশায় ১২-১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন।

এমপিও’র তালিকায় অপেক্ষমান বাগমারার সবচেয়ে পুরাতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাগমারা মহাবিদ্যালয়টি বাগমারা থানার সন্নিকটে একটি মনোরম পরিবেশ ১৯৯৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ জিয়াউল আলম রাবু জানান, প্রতিষ্ঠানটির এইচএসসি পর্যায়ের বেতন হলেও আজও ডিগ্রী লেভেলের বেতন হয়নি।

দীর্ঘ ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে ডিগ্রী স্তরের শিক্ষকরা শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। অক্লান্ত পরিশ্রমে মিলেনি আজও শিক্ষক কর্মচারীদের আকাংখিত এমপিও। তিনি আরো জানান, শিক্ষকরা এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষার মান ধরে রেখেছে। বেতনভুক্ত হলে জাতিকে তারা অনেক ভাল কিছু উপহার দিতে পারবে।

কলেজের শিক্ষিকা শারমিন সুলতানা জানান, বেতনের আশায় এখন প্রহর গুণছি। সংসারে অর্থ কষ্ট এখন মরন ব্যাধির মত চেপে বসেছে।

একই অবস্থা গোপালপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত ১৯৯৮ সাল হতে আলিম শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়ে বেশ সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়া বিগত কয়েক বছরের ফলাফল ভাল। অথচ আজও এমপিও হয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গত ১২/১৩ বৎসর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা বিনা বেতনে চাকরি করছেন।

তাদের স্ত্রী –সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। মাদ্রাসার শিক্ষক হাফিজুর রহমান জানান, বেতনের আশায় এখন প্রহর গুনছি। সংসারে অর্থ কষ্টে জীবন চলছে।

হাটমাধনগর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, বেতনের আশায় তাদের জীবনের অনেকটা সময় চলে গেলেও বেতন পেলেন না। বাগমারায় এখনও এমপিও ভুক্ত না হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, বাগমারা মহাবিদ্যালয় (ডিগ্রী স্তর), সৈয়দপুর-মচমইল মহিলা কলেজ (ডিগ্রী স্তর) নাছিরগঞ্জ কলেজ (ডিগ্রী স্তর )। সালেহা-ইমারত ডিগ্রী কলেজের (ডিগ্রী স্তর ),

গোপালপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার (আলিম স্তর ও ভোকেশনাল শাখা), বালানগর হাইস্কুল (মাধ্যমিক স্তর), শ্রীপুররামনগর টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ (ভোকেশনাল স্তর), মোহনগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ (বিষয়ত স্তর), হাটমাধনগর আলিম মাদ্রাসা ও শ্রীপুররামনগর আলিম মাদ্রাসার (আলিম স্তর)।

এছাড়া মচমইল দাখিল মাদ্রাসা, কোন্দা, কোয়ালীপাড়া, নখোপাড়া, হাট-একডালা, খাজাপাড়া মহিলা মাদ্রাসা, কুমারপুর আলিম মাদ্রাসা, গোবিন্দপাড়া ও নরদাশ দাখিল মাদ্রাসার দাখিল স্তর। সুলতানপুর ও পীরগঞ্জ স্কুলের মাধ্যমিক স্তর। কুলিবাড়ি, যোগিপাড়া, ঝিকরা, বিলসনি,

ভবানীগঞ্জ আইড়িয়াল, সাজুড়িয়া, নাজিরপুর, সোনাডাঙ্গা, রুহিয়া মাহমুদপুর, সারন্দী, অভ্যাগত পাড়া, বাইগাছা ও আক্কেলপুর নিন্মমাধ্যমিক স্কুল, মজোপাড়া মহিলা, কাতিলা, খালগ্রাম ও দ্বীপনগর মহিলা বি এম কলেজ।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান সহ প্রায় সকল শিক্ষকের সরকারি চাকুরির বয়স অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাদের কোথাও যাবার জায়গাও নেই। নিজের জীবন অন্ধকারে রেখে অজপাড়াগাঁয়ে তারা শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনেক ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাগমারায় রয়েছে। কিন্তুু সেগুলো এখনও এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা সত্যিই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তারা এমপিও ভুক্ত হলে শিক্ষার মান আরো বৃদ্ধি পাবে। এগিয়ে যাবে দেশ।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন