বাগমারায় থামছে না কৃষকের গরু চুরি

বাগমারা রাজশাহী

বাগমারায় গরু চোরের উপদ্রুপ বেড়েই চলেছে। গরু চুরি প্রতিরোধ করতে এলাকার কৃষকের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে। বিগত দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক গরু চুরি হলেও গরুর কোন খোঁজ মিলছে না। এলাকার এক শ্রেণির গরু ব্যবসায়ীরা ব্যবসার আড়ালে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গরু চোরের সাথে জড়িয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষকরা পুলিশ প্রশাসনের নজরদারী দাবি করেছেন ।

জানা গেছে, গরু এলাকার কৃষক পরিবারের উন্নয়নের মুল বাহন। এলাকার অধিকাংশ কৃষক গরু লালন-পালন করে বছরের পর বছর বিক্রি করে থাকে। এতে যে পরিমান আয় হয় তা দিয়ে তাদের পরিবারের ভরন-পোষন চালায়। কৃষকদের এই অবলম্বন গরু চুরির ঘটনায় প্রায় শতাধিক কৃষক পরিবার এখন নিঃশ্ব হয়ে পড়েছে।

বাগমারার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাগমারার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিগত দুই মাসে প্রায় অর্ধশতাধিক গরু রাতের অন্ধকারে নিয়ে গেছে চোরের সিন্ডিকেট চক্র। রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ চোরের দল একের পর এক গরু চুরি করায় এলাকার কৃষকদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে। এতেও রক্ষা পাচ্ছেনা গরুর মালিকরা। এই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের দেউলিয়া গ্রামের কৃষক রফিকুদ্দিনের একটি গাভী নিয়ে যায় চোরেরা। রফিকুদ্দিনের পুত্র জুয়েল রানা জানান, অতি কষ্টে লাভের আশায় একটি গাভী গত এক বছর ধরে লালন-পালন করছিলাম। কিন্তু বিধি বাম গোয়াল ঘর হতে সিঁদকেটে রাতের কোন এক সময়ে চোরেরা তা নিয়ে গেছে। এতে করে তারা আর্থিক ভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান তিনি। এছাড়া উপজেলার খুজিপুর গ্রামের সহদর আফজাল হোসেন ও বিশু মিয়া জানান, তাদের ৩টি গরু চোরেরা নিয়ে গেছে। একই ভাবে বালানগর গ্রামের আব্দুল জলিল জানান, অনেক কষ্ট করে গরু পালন করেছিলাম কিন্তু গত এক সপ্তাহ আগে রাতের আধারে গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে তার দুটি গরু নিয়ে গেছে চোরেরা। একই গ্রামের ভ্যান চালক সেলিম হোসেন জানান, বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক থেকে সুদের মাধ্যমে টাকা নিয়ে একটি গরু ক্রয় করে ছিলাম। গরুটি সবে বড় হয়ে ওঠেছে। এরি মধ্যে সংঘবদ্ধ চোরের দল তার গোয়ালঘরের তালা ভেঙ্গে গরুটি চুরি করে নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় সংঘবদ্ধ চোরের দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে রাতের পর রাত গরু চুরি করে অন্যত্র পাচার করছে। কৃষকরা গরু চুরি ও পাচার রোধে পুলিশের বিশেষ নজরদারী গরু বহনকারী বিভিন্ন যানবাহন তল্লাসীর দাবী জানিয়েছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, গরু চুরি প্রতিরোধে আমরা তৎপর আছি। এর আগে শ্রীপুর ইউনিয়ন থেকে চুরি যাওয়া একটি গরু পুলিশ উদ্ধার করেছে। গরু চুরির সাথে সাথে থানায় অভিযোগ দিলে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তা খতিয়ে দেখব। এছাড়া গরু চুরি রোধে এখন থেকে পুলিশের বিশেষ নজরদারীও বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

1 thought on “বাগমারায় থামছে না কৃষকের গরু চুরি

Comments are closed.